২০ শতাংশ টিকা গ্রহীতার নেই অ্যান্টিবডি, প্রয়োজন পড়তে পারে বুস্টার ডোজের !

0
421

অমিত শর্মা, নয়াদিল্লি : দেশে জোর কদমে চলছে করোনা ভাইরাসের টিকাকরণ। তবে এই টিকাকরণ হওয়া সত্ত্বেও অনেকের মধ্যেই নাকি কোভিড–১৯–এর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে টিকাকরণ হয়েছে এমন ২০ শতাংশের মধ্যে ভ্যাকসিন অ্যান্টিবডি তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাই সেই সব ব্যক্তিদের বুস্টার ডোজ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, এক সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে ভুবনেশ্বরের এক রিসার্চ ইউনিটের ২৩ শতাংশ ফ্যাকাল্টি সদস্য, যাঁরা করোনা ভাইরাসের দু’‌টি ডোজ নিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে কোনও ধরনের অ্যান্টিবডি সৃষ্টি হয়নি। ভুবনেশ্বরের ইনস্টিটিউট অফ লাইফ সায়েন্স (‌আইএলএস)‌-এর ডিরেক্টর ডাঃ অজয় পারিদা জানিয়েছেন যে অ্যান্টিবডি যাঁদের মধ্যে কম তাঁদের বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে এবং তিনি এও বলেন, ‘যদিও কিছু কোভিড সংক্রমিত মানুষের মধ্যে অ্যান্টিবডির মাত্রা ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার হলেও, টিকা দেওয়া ব্যক্তিদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় এটি ৫০ এর নিচে।

যদি অ্যান্টিবডি স্তর ৬০ থেকে ১০০ হয়, তাহলে আমরা বলতে পারি যে ব্যক্তিটি অ্যান্টিবডি পজিটিভ‌।’‌ প্রসঙ্গত, ভুবনেশ্বরের এই ইনস্টিটিউট ভারতীয় সার্স-কোভ-২ জিনোম কনসোর্টিয়ামের (ইনসাকোগ) একটি অংশ, দেশজুড়ে ২৮টি ল্যাবের একটি নেটওয়ার্ক যারা করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়ান্টের সিক্যুয়েন্স জিনোম নিয়ে কাজ করছে।

রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, দু’‌টি ডোজের ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও চার থেকে ছয় মাস পর বহু মানুষের মধ্যে অ্যান্টিবডি স্তর অনেক নীচে নামতে দেখা গিয়েছে। অজয় পারিদা জানিয়েছেন যে সম্পূর্ণ ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও যাঁদের মধ্যে কম বা নেগেটিভ অ্যান্টিবডি রয়েছে তাঁদের বুস্টার ডোজের প্রয়োজন পড়বে। তিনি এও জানিয়েছেন যে ক্লিনিক্যাল গবেষণা চূড়ান্ত পর্যায় রয়েছে এবং কোভিশিল্ড ও কোভ্যাকসিনের মতো ভারতীয় ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ৭০-৮০ শতাংশ, যা ২০-৩০ শতাংশ মানুষ সম্পূর্ণ ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও তাঁদের মধ্যে অ্যান্টিবডি গড়ে ওঠেনি তার আভাস দিচ্ছে।

পারিদা জানিয়েছেন যে আইসিএমআর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ওপর ভিত্তি করে বুস্টার ডোজকে অনুমোদন দিতে পারে। তিনি বলেন, ‘‌কোভিশিল্ড বা তার বিপরীত টিকা নেওযা ব্যক্তিদের বুস্টার ডোজ কোভ্যাকসিন হবে কিনা অথবা কোভ্যাকসিন বা কোভিশিল্ডের ভ্যাকসিন নেওয়া ব্যক্তিদের স্পুটনিক ভি-এর বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে কিনা তা নিয়ে ট্রায়াল চলছে। এই গবেষণা এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।’‌

অপরদিকে, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোকে আগামী ২০২২ সাল পর্যন্ত বুস্টার ডোজ কর্মসূচি স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। হু-এর পক্ষ থেকে উন্নত ও উচ্চ আয়যুক্ত দেশ ও অনুন্নত ও দরিদ্র দেশগুলির মধ্যে যে ভ্যাকসিন নিয়ে ফাঁক তৈরি হয়েছে তা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

অপরদিকে শনিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এখনও পর্যন্ত দেশে ৭৩.‌৭৩ কোটির বেশি কোভিড ভ্যাকসিন ডোজ দেওয়া হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত দেশে টিকাকরণ হয়েছে ৬৪,৪৯,৫৫২।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here