সংসদ অধিবেশনের শেষ দিনও প:মেদিনীপুরের জন্য ট্রেন নিয়ে জোরালো সাওয়াল, সাংসদ সন্ধ্যা রায়ের

0
498

সংসদ অধিবেশনের শেষ দিনও প:মেদিনীপুরের জন্য ট্রেন নিয়ে জোরালো সাওয়াল, সাংসদ সন্ধ্যা রায়ের

 

BAHRS GLOBAL NEWS, 15 FEB 2019
নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি : বুধবার ছিল লোকসভার সংসদ অধিবেশনের শেষ দিন। আর এই শেষ দিনে পশ্চিম মেদিনীপুরের সাংসদ সন্ধ্যা রায় শেষবারের মতো তার সাংসদ এলাকার চাওয়া পাওয়া নিয়ে সরব হয়েছিলেন অধিবেশনের জিরো আওয়ারে। ঘড়িতে সময় তখন ১ টা। সন্ধ্যা রায় তার সাংসদ এলাকার সমস্যার কথা নিয়ে বলতে উঠে তিনি প্রথমেই বলেন। আমি পশ্চিম মেদিনীপুরের সাংসদ হিসেবে রেলমন্ত্রীকে এই সদনের মাধ্যমে অনুরোধ করতে চাই যে, আমার সাংসদ এলাকা পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়ারির ২২৩ নম্বর বিধান সভা ক্ষেত্রে রেল স্টেশন বানানোর জন্য ও ভারতীয় রেল মানচিত্রে কেশয়ারির নাম যুক্ত করতে রেলমন্ত্রী কে আপনার মাধ্যমে সুপারিশ করছি।

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রেল লাইন ও রেল স্থাপন করা হোক। এর ফলে লক্ষ গরিব কষান ও মেহেনতি মজদুর ও ব্যবসায়ীরা কেশয়ারির স্টেশন থেকে যাত্রা করতে পারবে তার সাথে তাঁদের সময়ও বাঁচবে। অন্য দিকে ভোটের ঘোষনাও হয়তো এই মাসের শেষের দিকে হতে চলেছে। উল্লেখ্য, তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরধে ২০১৪ সালে তৃণমূলের জোরা ফুলের প্রতীকে দাড়িয়ে ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায়। প্রশ্ন এবারও কি তিনি পশ্চিম মেদিনীনুপুর থেকে টিকিট পাচ্ছেন ? তবে কাজের নিরিখে যদি বিচার্য হয় তাহলে এবারো তাঁর টিকিট একপ্রকার নিশ্চিত। যদিও এটা ঠিক করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এছাড়াও তাঁর সাংসদ এলাকা পশ্চিম মেদিনীপুরে কাজের নিরিখে তিনি বেশ জনপ্রিয় সাংসদ। সাংসদ এলাকার মানুষের সাথে তাঁর সম্পর্কও বেশ ভালো। সাংসদ এলাকায় উন্নয়নের নিরিখে সারা দেশের মধ্যে তিনি একবার তৃতীয় ,একবার চতুর্থ এবং পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে তিনবার প্রথম ,একবার তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। অন্যদিকে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুড বুকেও রয়েছেন। এক সংবাদ মাধ্যমের সার্ভের রিপোর্ট অনুযায়ী শুধু মুখ্যমন্ত্রী নয় পশ্চিম মেদিনীপুরের সাংসদ হিসেবে মেদিনীপুরের ভোটারদের কাছেও তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কাজের মানুষ হিসেবে পরিচিত।

এদিন বুধবার লোকসভার সাংসদ অধিবেশনের শষ হওয়ার পর তিনি বলেন, আমি এই পাঁচটি বছর আমাদের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে একজন সাংসদ হিসেবে দিল্লি গিয়ে,আমার সাংসদ এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা অধিবেশনে তুলে ধরেছি আমার সাংসদ এলাকার মানুষের অধিকার ও পশ্চিম মেদিনীনুপুরের সামগ্রীক উন্নয়নের লক্ষ্যে। তবে আমি একা এই কাজ কখনই সম্ভব করে তুলতে পারতাম না যদি না এই পাঁচটি বছর আমার সাংসদ এলাকার মানুষেরা আমার পাশে না থাকত।

এছাড়াও পশ্চিম মেদিনীপুর উন্নয়নের কাজ করতে গিয়ে আমায় বিশেষ ভাবে ও ২৪ ঘন্টা পাশে থেকে আমার সাংসদীয় কাজের সমস্ত দায়িত্ব পালন করে গেছে সে আমার আপ্তসহায়ক অনির্বান ভট্টাচার্যী। সে আমার ভাই এর মতো। তাছাড়াও আমার পাশে সর্বদা ছিল আমার ভাই পরিমল রায়। সাংসদ এলাকার মানুষকে সাথে নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকলে মিলে একসাথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোনার বাংলা গড়বার স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। এর ফলে আজ সমগ্র বাংলার সাথে পশ্চিমমেদিনীপুর ও উন্নয়নের জুয়ারে ভাসছে। ১০ বছর আগের পশ্চিমমেদিনীপুর আর আজকের দিনের পশ্চিম মেদিনীপুর অমুল পরিবর্তন হয়েছে। যার প্রেরণায় মুলে আমাদের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এরপরেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা রায়, সোশ্যাল মিডিয়া একটি পোস্ট করেন তাঁর ছোটবেলার জীবন থেকে শুরু করে অভিনয় জগতে প্রবেশ ও পরবর্তীতে জনগনের জন্য কাজ করার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন “আমার পথের পাঁচালী” নামক একিটি পোষ্টে। এবং সেই পোষ্ট টি বেশ জনপ্রিয়ও হয়েছে। সাংসদ তাঁর নিজের লিখা নিজের ফেসবুক পোষ্ট “আমার পথের পাঁচালী” তে কি লিখেছেন দেখে নেওয়া যাক যা তার ফেসবুকের প্রতিলিপি থেকে তুলে ধরা হল।

“আমার পথের পাঁচালী”
সুপ্রভাত…..
আমি শ্রীমতী সন্ধ্যা রায়। ১৯৪১ সালের ১১ এপ্রিল আমি নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেছিলাম। ছোটোবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিলো মানুষের কাছে আসবো মানুষের হয়ে কিছু করবো!তাই আস্তে আস্তে বাংলা সিনেমা জগতের সাথে পায়ে পা মিলিয়ে বড়ো হয়ে ওঠা। আমার বহু সিনেমা মানুষের ভালো লেগেছিলো এবং অনেক সম্মান আমাকে সম্মানিত করেছিলো,কিন্তু সেই সময়ে এসেও আমার মনে হয়েছিলো আমি একটা বোকা বাক্সের মধ্যে ছবি হয়ে মানুষের কাছে এসেছি কিন্তু মানুষের হয়ে কিছু কাজ করতে পারিনি!!আমার ইচ্ছে ছিলো মানুষের হয়ে কিছু করার এবং তার জেদ আরো বাড়িয়ে দিয়ে ছিলো ২০১৪ সালে যখন পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে প্রস্তাব দেন যে তুমি মেদিনীপুর লোকসভার সাংসদ হয়ে মেদিনীপুর লোকসভার জন্য প্রতিনিধিত্ব করবে। তখন আমি ভেবেছিলাম কাজটা কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়। আমি পারবো কারণ আমাকে এটা পারতেই হবে এই বলে আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবে রাজি হই। কিছু কিছু ব্যক্তিত্বগণ আমাকে বলেছিলেন যে আপনি অভিনয় জগতে সময় দেবেন, নাকি রাজনীতি করবেন! তারপরে আমি একদিন মেদিনীপুর লোকসভায় যাই এবং সেখানে গিয়ে মানুষের উন্মাদনা আমার ইচ্ছে শক্তি কে আরো দ্বিগুন করে দিয়েছিলো। আমি পরে সেইসব মানুষদের ভোটে জয়ী হলাম এবং দিল্লির লোকসভায় পা রাখলাম ,শপথ গ্রহণ করলাম। আমি প্রথম দিন লোকসভায়গিয়ে বুঝলাম এখানে প্রত্যেকটি সাংসদ তার সংসদ এলাকার বিভিন্ন কাজের সমস্যার সমাধান করার জন্য উপস্থিত হয়েছেন। আমার মেদিনীপুর লোকসভার বেশ কিছু সমস্যা মাননীয়া স্পিকার মহাশয়ার কাছে তুলে ধরেছিলাম।তার মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য হলো পোস্ট অফিস ডিজিটাল করা ,কেশিয়াড়ি বিধানসভায় রেলপথ ব্যবস্থা চালু করা ,কিছু দূরপাল্লার ট্রেন বেলদা এবং দাঁতন স্টেশন এর দাঁড়ানোর আর জি, ভাদুতলা স্টেশন বন্ধের হাত থেকে রক্ষা করা ,এছাড়া বহু উল্লেখযোগ্য কাজ লিখিতভাবে মহাশয়ার কাছে জমা দিয়েছিলাম। এছাড়া এই দীর্ঘ পাঁচ বছরের (২০১৪-২০১৯) আমার সাংসদ তহবিলের সব অর্থ সাধারণ মানুষদের জন্য খরচা করেছি এবং ভারতবর্ষের মধ্যে একবার তৃতীয় ,একবার চতুর্থ এবং পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে তিনবার প্রথম ,একবার তৃতীয় স্থান অধিকার করেছি। আজ পাঁচ বছর সমাপ্ত হতে যাচ্ছে ।এই দীর্ঘ পাঁচ বছর লোকসভায় বহু আবদার করতে দেখেছি, বহু অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে দেখেছি । আমি নিজেও তিন তালাক বিল থেকে শুরু করে রাফায়েল ইসু ,নোট বাতিল সবকিছুই সাধারণ মানুষের কথা ভেবে সাধারণ মানুষের জন্য প্রতিবাদ করেছি।এছাড়াও এফ আর ডি এ বিল নিয়ে, এবং ভ্রষ্টাচারি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অন্যান্য সাংসদের সাথে এবং আমার সহকর্মী তৃণমূল সাংসদদের সাথে আন্দোলনও করেছি। তাই শেষ বেলায় এসে আমি যা চেয়েছিলাম তার অনেক বেশি পেয়েছি মানুষের কাছ থেকে। আমি যেরকম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করে ধরে ছিলাম ,ঠিক সেই রকম ভাবেই তার হাত ধরে থাকবো যাতে গ্রামবাংলার এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের মানুষ আরো বেশি করে উন্নয়নের দ্বারা উপকৃত হয়।
ভগবান সবার মঙ্গল করুক, সবাই ভালো থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ, তৃণমূল কংগ্রেস জিন্দাবাদ, মা মাটি মানুষ জিন্দাবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here