সংগঠিত ও অসংগঠিত ২ কোটির বেশি ভারতীয় চাকরি হারিয়েছেন শেষ দু’মাসে, বলছে সরকারি তথ্য

0
513

অমিত শর্মা, নয়াদিল্লি : বিশের-বিষ ঠিক মতো কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশ। নতুন করে করোনা সংক্রমণে ভারতীয় অর্থনীতি ভয়ঙ্কর ক্ষতিগ্রস্ত। সংগঠিত ও অসংগঠিত দুটি সেক্টরেই কাজ হারিয়েছেন প্রচুর মানুষ। সেন্টার ফর মনিটারিং ইন্ডিয়ান ইকনমির পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ২.২ কোটি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন৷

লকডাউন পর্বে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের অসংগঠিত সেক্টর। দেশের ছোট শিল্প, ব্যবসায়ী ও বেসরকারি সার্ভিস সেক্টরগুলিও করোনার কোপে পড়েছে৷ এই সেক্টরে কর্মহীন হয়েছেন ১.৫ কোটির বেশি মানুষ৷ অংসগঠিত সেক্টরের মানুষ কাজ হারানোয় মার্কেটে অর্থের যোগান কমেছে৷ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমেছে, স্বাভাবিকভাবেই মন্দার ধাক্কা লেগেছে বড় পুঁজির কোম্পানিগুলোতেও৷ পরিবহন ভ্রমণ, হোটেল ও তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অনুসারী ছোট ব্যবসাগুলি ভয়ঙ্করভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷

সরকারি বেতনভুক কর্মচারী এবং বড় কোম্পানির চাকুরিজীবীদের তুলনামূলক কিছুটা কম স্পর্শ করেছে লকডাউন৷ তবে কাজ হারিয়ে নতুন চাকরির চেষ্টা করছেন এরকম মানুষের সংখ্যা ১.৭ কোটি থেকে বেড়ে ৫ কোটিতে পৌঁছেছে। গ্রামীন এলাকায় চাকরি ছেড়ে কৃষিতে ফিরছেন বড় সংখ্যায় মানুষ এতে শ্রম বাড়লেও উৎপাদন তুলনামূলকভাবে বাড়ছে না।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়া নিয়ে আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ডেপুটি গভর্নর মাইকেল দেবব্রত পাত্র। কিছুদিন আগেই তিনি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মাসিক বুলেটিনে লিখেছিলেন, ‘উচ্চ আর্থিক বৃদ্ধিতে পৌঁছানোর জন্য গোটা দেশ লড়াই করছে৷ এরকম অবস্থায় মারণ ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ ভয়ঙ্কর হবে৷ আগের অভিজ্ঞতাও নতুন অর্থনৈতিক বিপর্যয়কে সামাল দিতে পারবে না৷’

ইতিমধ্যেই এপ্রিল-জুন এই তিনমাসের আর্থিক বৃদ্ধির সম্ভাব্য হার ২৬.২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫.৫ করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। ভারত সহ সমস্ত উন্নয়নশীল দেশগুলির অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত হয় উৎপাদন এবং চাহিদার উপর। লকডাউন দেশের মার্কেটে টাকার যোগান কমিয়েছে এ বিষয়ে সন্দেহ নেই৷ গত বছর লকডাউন পর্বে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের হাতে টাকা দিয়ে বাজারকে সচল রাখার কথা বলেছিলেন৷

লকডাউনের অসংগঠিত ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষের আয় সম্পূর্ণ বন্ধ যাতে না হয় সে বিষয়ে সঠিক ব্যবস্থা সরকারকে নিতে হবে৷ সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানো, মাস্ক ও করোনা বিধির সঠিকভাবে পালন করে লকডাউনকে যতটা সম্ভব তাড়াতাড়ি শেষ করার ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে৷ পাশাপাশি বেশি মাত্রায় ভ্যাকসিনেশন ও করোনা টেস্টই লকডাউন এড়ানোর জন্য সঠিক পদক্ষেপ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here