শর্ত মেনে বাংলায় বিধিনিষেধ আরো কী কী ছাড় দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ! জেনে নিন বিস্তারিত

0
814

তীর্থঙ্কর মুখার্জি, কলকাতা : কর্মীদের টিকা দিয়ে রেস্তোরাঁ খোলা যেতে পারে। এমনটাই নির্দেশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শুধু তাই নয়, মাত্র ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ চালাতে হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাগৃহে বণিকসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠকে তিনি রাজ্যে চলতি বিধিনিষেধে কিছু ছাড়ের কথা ঘোষণা করলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোভিড বিধি মেনে রেস্তোরাঁ চালানো যেতে পারে। তবে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যেতে পারে রেস্তোরাঁ। পাশাপাশি শপিং মলও আগামীদিনে খুলবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন,১৬ তারিখের পর এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শুধু তাই নয়, পোশাকের দোকান খোলার ক্ষেত্রেও আরও ছাড় রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের। তিনি জানিয়ছেন আগে ১২টা থেকে তিনটে পর্যন্ত খোলা থাকত। কিন্তু নয়া নির্দেশ অনুযায়ী ১২ থেকে এখন দোকান খোলা থাকবে ৪টে পর্যন্ত। আজ বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ছিল ২৯টি বণিক সংগঠন।

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সবার কথা ভেবে আমরা অন্যান্য রাজ্যের মতো লকডাউন করিনি, কার্ফু করিনি। কিছু বিধিনিষেধ জারি করেছি, মানুষ সহযোগিতা করছেন। বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত খুচরো দোকান খোলা রয়েছে। নির্মাণ সংস্থাগুলি ভ্যাকসিন নিয়ে কর্মীদের কাজ করাতে পারে।

একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেণ, আমরা ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৪০ লক্ষ ভ্যাকসিন দিয়েছি। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের কথায়, ৬০ থেকে ৭০ হাজার ভ্যাকসিন আমরা রোজ দিয়ে যাচ্ছি। তবে ভ্যাকসিন দিতে গিয়ে খেয়াল রাখতে হবে যে বেশি মানুষ যাতে জমায়েত করতে না পারেন।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার নবান্নে বণিকসভাগুলির বৈঠকে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে রেস্তরাঁ। এই সময়ের মধ্যে সেখানে গিয়ে খাওয়াদাওয়া সারতে পারবেন ভোজনপ্রেমীরা।

তবে শর্ত একটাই, হোটেল, রেস্তরাঁ প্রত্যেক কর্মীর টিকাকরণ বাধ্যতামূলক। তারপরই তাঁদের কাজে লাগানো যাবে। প্রায় এক মাস হল রাজ্যে করোনার সংক্রমণের চেন ভাঙতে চলছে কড়া বিধিনিষেধ। বন্ধ সমস্ত গণপরিবহণ। শপিং মল, ফুড প্লাজা, সিনেমা হল, হোটেল, রেস্তরাঁ বন্ধ। তবে হোটেল ও রেস্তরাঁগুলি থেকে অনলাইন ফুড ডেলিভারির কাজ চলছে।

তবে সেখানে গিয়ে খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রে জারি নিষেধাজ্ঞা। এবার তাতেও ছাড় দেওয়া হল। বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা – এই তিনঘণ্টা হোটেল কিংবা রেস্তরাঁয় বসেই খেতে পারবেন মানুষজন। তবে কঠোরভাবে দূরত্ববিধি মানতে হবে। যথাযথভাবে স্যানিটাইজার, মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

এদিন রেস্তরাঁ খোলায় অনুমোদন দিয়ে এসব একগুচ্ছ শর্তের কথা মনে করিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর অবশ্যই হোটেল, রেস্তরাঁর কর্মীদের টিকা নিতে হবে। তারপরই কাজে যোগদানের অনুমতি পাবেন তাঁরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here