রায়গঞ্জ সুদর্শনপুর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের কবলে একাধিক গৃহপালিত পশু! ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

0
459

রায়গঞ্জ সুদর্শনপুর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের কবলে একাধিক গৃহপালিত পশু ! ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

BAHRS GLOBAL NEWS, 28 APR 2020
শান্তি রঞ্জন দাস, রায়গঞ্জ : সোমবার রাতে পশ্চিম সুদর্শনপুর এর দেবশর্মা পাড়ায় আচমকাই কালু দেব শর্মার বাড়িতে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে গোয়াল ঘরে হঠাৎ করেই আগুন লাগে। সেই মুহুর্তে ৬ টি গরু এবং দুটি ছাগল অগ্নিদগ্ধ হয়। স্থানীয় মানুষ অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় গরু ,ছাগল গুলোকে কনোরকমে উদ্ধার করে। একটি বাছুর সেখানেই মারা যায়।
ওয়ার্ড কাউন্সিলার নয়ন দাস এর কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে ছুটে যায় উত্তরদিনাজপুর পিপল ফর এনিমেলস এর কর্ণধার গৌতম তান্ততিয়া ও তাঁর টিম। তাঁরা অগ্নিদগ্ধ গরু এবং ছাগলের চিকিৎসা শুরু করে। চিকিৎসা চলে প্রায় তিন ঘন্টা ধরে ।এমনিতেই লকডাউন চলছে এবং এই রাত্রিবেলা কোন পশু ডাক্তার কে পাওয়া যাচ্ছিল না এবং রাত্রিবেলা পশু হাসপাতালও বন্ধ তাই অনেকটাই সমস্যায় পড়িতে হয় তাঁদের।
এই অবস্থায় করোনা সংক্রমণের ভয় কে উপেক্ষা করেই উত্তর দিনাজপুর পিপল ফর এনিম্যালস এর সম্পাদক গৌতম তান্তিয়ার নেতৃত্বে সেখানে ছুটে যায় পশুপ্রেমী সংগঠনের সদস্য রাজন শর্মা, সোমেন দাস, তনয় বিশ্বাস, মৃণাল দে, শুভম দাস ,অর্ক মজুমদার এবং সুদীপ পাল। এরপর ভেটেনারি সার্জন ডক্টর মানিক লাল সাহা এবং কৃষ্ণেন্দু মন্ডল এর পরামর্শক্রমে চিকিৎসা শুরু করে পশুপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরা।

 

সংগঠনের সদস্যদের নিজেদের অর্থ দিয়েই ইন্দিরা কলোনির একটি ওষুধের দোকান থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ, মলম কিনে আনে। দুটি বাছুর ,তিনটি বড় গরু এবং দুটি ছাগলের চিকিৎসা করা হয়। চিকিৎসার পর সেগুলো কিছুটা সুস্থ বলে জানায় সংগঠনের কর্ণধার গৌতম বাবু। তবে দুটি গরুর অবস্থা খুবই আশঙ্কা জনক। গৌতম বাবু বলেন, কালু দেব শর্মার মা গোয়াল ঘরে মশা তাড়ানোর জন্য ডিম রাখার কার্টুনে ধূপ ধুনো দিয়েছিল ।
সেখান থেকেই আগুন লেগে যায় এবং দাও দাও করে গোয়ালঘর জ্বলতে থাকে। পাড়ার ছেলেরাই আগুন নেভায় এবং অগ্নিদগ্ধ গরু ছাগল গুলোকে উদ্ধার করে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। কানু দেব শর্মার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার বৃদ্ধা মা অনবরত কেঁদে যাচ্ছিল তার কৃতকর্মের জন্য ,নিজের ভুলের জন্য। পশুপ্রেমী সংগঠনের পক্ষ থেকে আক্ষেপ করে জানানো হচ্ছে যে পশুপাখি এবং পরিবেশের কল্যাণে এই পশু প্রেমী সংগঠন যে কাজগুলো করছে সমাজের কিছু লোক সেগুলোকে নিয়ে ব্যঙ্গ করছে এবং বিরূপ মন্তব্য করছে।
বেকার ছেলেরা পশুপাখি ও পরিবেশ রক্ষার্থে যারা এগিয়ে আসছে তাদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে । তাদেরকে এগুলো কাজের জন্য প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে হুমকির মুখেও পড়তে হচ্ছে ।এরকম চলতে থাকলে পশুপ্রেমী সংগঠনকে হয়তো তাদের এই সেবামূলক কাজ বন্ধ করে দিতে এক সময় বাধ্য হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here