রক্তাক্ত সংঘর্ষের একমাস পর বাংলাদেশের ইউপি চেয়ারম্যান আজিজ সর্দারের ক্ষমা প্রার্থনা !

0
701

রক্তাক্ত সংঘর্ষের একমাস পর বাংলাদেশের ইউপি চেয়ারম্যান আজিজ সর্দারের ক্ষমা প্রার্থনা !

BAHRS GLOBAL NEWS, 23 JUL 2020
চামেলি বণিক, গোপালগঞ্জ : বাংলাদেশে করোণার মধ্যে নিজের মৃত বাবার নামে আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করে রক্তাক্ত সংঘর্ষ সৃষ্টিকারী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নিজড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আজিজ সরদার অবশেষে সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা চান।
সংঘর্ষের প্রায় এক মাস পর মঙ্গলবার গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সামনে সালিশে নিজের কুকর্মের দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা চেয়ে নেন নিজড়ার ইউপি চেয়ারম্যান আজিজ সরদার। সেখানে এ সময় নিজড়া ইউনিয়নের সর্দার এবং মিনা বংশের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্কেখ্য, গত ২৫ জুন ফুটবল খেলার আয়োজন নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আজিজ সরদারের বাহিনী এবং একই গ্রামের দ্বীন ইসলাম মিনার বাহিনীর মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশসহ অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়। সংঘর্ষের পুরুষ শূন্য হয়ে পড়ে সরদারপাড়া ও মিনা পাড়ার বাড়িগুলো।
এদিনের সালিশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিনা বংশের ইতালি প্রবাসী এক মানবাধিকার কর্মী । নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, এই সংঘর্ষটা মূলত আজিজ সর্দার এবং দ্বীন ইসলাম মিনার গ্রুপের মধ্যে হয়েছে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। গত একমাস আগে একটা রক্তাক্ত সংঘর্ষ হয়েছিল যেখানে ইউপি চেয়ারম্যান নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অন্য গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়েছে দ্বীন ইসলাম মিনা। এই দুই বাহিনীর পূর্বপুরুষ স্বাধীনতাবিরোধী অর্থাৎ ১৯৭১সালে তারা পাকিস্তান পন্থী রাজাকার ছিলো।
তিনি বলেন, চেয়ারম্যান আজিজ সরদার ও দ্বীন ইসলাম মিনাকে নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। আজিজ সর্দারের বাহিনীর নাম বলা হয় আইজ্যা বাহিনী। আর দ্বীন ইসলাম মিনার বাহিনীকে বলা হয় বাইড়া বাহিনী। আজিজ ও দ্বীন ইসলাম মূলত এই দুই বাহিনীর নেতৃত্ব দেয়।
বাইড়া বাহিনীর প্রধান তথা দ্বীন ইসলাম মিনা বিরুদ্ধে জমি দখল, হিন্দু নির্যাতন, ঠিকাদারি কাজে অনিয়ম, নিজের প্রবাসী বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ।
প্রবাসী এই মানবাধিকার কর্মী আরো বলেন, দ্বীন ইসলাম মিনার পরিবার স্বাধীনতা বিরোধী অর্থাৎ রাজাকার ছিল।দেশ স্বাধীনের পরে তারা স্থানীয় বিএনপি নেতা এম এইচ খান মঞ্জুর শেল্টারে থাকে পরবর্তীতে আর্থিক সুবিধা দিয়ে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে। বি এন পির সময় এই দ্বীন ইসলাম মিনা স্থানীয় জাঙ্গাল কবরস্থানের গাছ চুরি করে তার ঘরের যাবতীয় ফার্নিচার তৈরি করেছে।
এই বাইড়া বাহিনীর আরেক সদস্য দ্বীন ইসলামের বড় ভাই নুর ইসলাম মিনা প্রায় ৩০ বছর আগে হিন্দু এক কিশোরীকে যৌন হয়রানি করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলো। এছাড়াও নিজড়া হাইস্কুলের তৎকালীন শিক্ষক বর্তমানে নিজড়া ৫২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন মো. দেলোয়ার মোল্লা। 
দেলোয়ার মোল্লা বিরুদ্ধে ছাত্রীর সাথে প্রেমের অভিযোগ তুলে দেলোয়ার মাস্টার এর ওপর নুর ইসলাম মিনার নেতৃত্বে ন্যাক্কারজনক পৈচাশিক বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়।দেলোয়ার মাস্টারকে মেরে মৃত্যু শয্যায় রেখে গ্রাম থেকে পালিয়ে নুর ইসলাম মিনা বিএনপি নেতা এমএইচ খান মঞ্জুর জাহাজে চাকরি নেয় পরবর্তীতে কুয়েতে চলে যায়।
অপরদিকে আইজ্জা বাহিনীর প্রধান তথা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজ সরদারের বাহিনীর বিরুদ্ধে অর্থপাচার, মাদক পাচার, স্বর্ণ পাচার, মানব পাচার, জমি দখল, হিন্দু নির্যাতন সহ ভয়ঙ্কর অভিযোগ রয়েছে এদের বিরুদ্ধে।
গত ২৫ জুন রক্তাক্ত সংঘর্ষের মূল হোতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজ সরদারের ছোট ভাই মোঃ আশরাফুল সরদার ওরফে ফুলমিয়াকে ঘিরেই এসব অভিযোগ বেশি।
ঢাকার মতিঝিলে আদমজীকোর্ট বিল্ডিংয়ে মানি একচেঞ্জ ব্যবসার আড়ালে অর্থ পাচার, মানব পাচার, ইয়াবা, স্বর্ণ চোরাচালান আশরাফুল সরদার ওরফে ফুলমিয়া সরদার, ইয়ামনি সরদার, মোহাম্মাদ সরদার এই কয়জন সামাল দেয়।
অন্যদিকে আইজ্যা বাহিনীর মনু সরদার, আজাদ সরদার, রিপন সরদার, মিলন সরদার রয়েছে এরা এক সময় গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে চুরি করে গণপিটুনী খেয়েছে। পরবর্তীতে গ্রামের প্রভাবশালীদের বলয়ে থেকে অন্যের জমি দখল, টাকার বিনিময়ে অন্যের জমি দখলে সহায়তা করা। হিন্দু নির্যাতন, ইয়াবা, গাজা বিক্রি এসব তাদের নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, ফুল মিয়া সরদার তার আপন বড় ভাই নিজড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত রবিউল ইসলাম সর্দারের স্ত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এ নিয়ে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন রবিউল সরদার।এই পরিস্থিতিতে অমনোযোগী মোটর ড্রাইভিং এর কারণে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।
সালিশে উপস্থিত নিজড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা জানান, সত্যি কথা বলতে কি, এটা আসলে মীমাংসার একটা আনুষ্ঠানিকতা হয়েছে। মূলত সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে দুই গ্রুপের অহংকারী মনোভাবের কারণে। সেই মনোভাব যতক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই দুই গ্রুপের মধ্যে থমথমে ভাব টা যাবে না।
বাইরে দুই গ্রুপে মিশে গেলেও যে মার খেয়েছে সে যদি ভুলে না যায় তবে তো এ সমস্যা তুষের আগুনের মতো জ্বলে উঠবে। আমরা আশান্তির আগুন চাই না। ওরা দুই গ্রুপই অসভ্য। ওদের অসভ্যতামির কারণে গ্রামের সাধারণ মানুষ গত একমাস পুলিশী আতঙ্কে ভুগছে। আমরা দাবি জানাবো, আজিজের আইজ্যা গ্রুপ ও আর দ্বীন ইসলামের বাইড়া গ্রুপের প্রতিটি সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here