মোদীগড়ে তোলপাড়! গুজরাতের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে বিজেপির হাইভোল্টেজ বৈঠক আজ

0
366

অমিত শর্মা, নয়াদিল্লি : মোদীগড়ের বিজেপির রাজনীতিতে কার্যত তোলপাড়। বিজয় রুপানির ইস্তাফার পর গুজরাতের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিজেপির বিশেষ বৈঠক। এদিন দলের পরিষদীয় বৈঠক ঘিরে চড়ছে জল্পনার পারদ। বিভিন্ন সূত্রের খবর যে আজকের মধ্যেই গুজরাতের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম বিবেচনা করে সেবিষয়ে সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেবে বিজেপি। এদিন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নরেন্দ্র সি তোমার ও প্রহ্লাদ জোশী গুজরাতের মাটিতে পা রাখছেন। তারপরই বিষয়টি নিয়ে বিবেচনা শুরু হবে।

শনিবার গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে আচমকা বিজয় রুপানির ইস্তফার ঘটনা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রভাব ফেলে দেয়। উল্লেখ্য, সদ্য কর্ণাটকে বিজেপির নেতা ইয়েদুরাপ্পা মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন, একই ঘটনা উত্তরাখন্ডেও দেখা যায়। সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি এবার খোদ মোদী-শাহ গড় গুজরাতে। এদিকে সূত্রের খবর শনিবার রুপানির ইস্তফার পর সোমবারই সম্ভবত গুজরাত পেতে চলেছে তাদের নয়া মুখ্যমন্ত্রী। তবে তার আগে , এদিন রয়েছে বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠক। যে বৈঠকে যোগ দিতে সকাল ১১ টার মধ্যে গুজরাতের মাটিতে পা রাখছেন কেন্দ্রের ২ মন্ত্রী।

বিজয় রুপানির ইস্তফার নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে বলে আপাতত অনুমান করা হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্র মারফৎ খবর বলছে, সম্ভবত কোভিডের সময় বিজয় রুপানির প্রশাসনিক ক্ষমতায় অসন্তুষ্ট ছিল দল। যেভাবে গুজরাতে করোনা ছড়িয়ে যায়, ও তারফলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে যেতে থাকে, তা বিজেপির থিঙ্কট্যাঙ্কের কাছে ভালো বার্তা ছিল না। এছাড়াও ২০১৭ সালে বিধানসভা ভোটে বিজেপি মোদীগড়ে রুপানি সরকারের অধীনে থেকেও ১০০ এর অঙ্ক ছুঁতে পারেনি। তা নিয়ে গেরুয়া শিবিরে বেশ অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। এছাড়াও মোদীর আমলে গুজরাত আর্থিক দিক দিয়ে যে শিখরে পৌঁছে ছিল, সেই জায়গা থেকে অনেকটাই নিম্নমুখী হয়ে যায় কার্ভ। যা কার্যত দিল্লিতে বিজেপি নেতাদের কাছে খুব একটা ভালো ঠেকেনি! এই সমস্ত কারণ বিজয় রুপির অস্তফার নেপথ্যে বড় কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত গুজরাতের উপমুখ্যমন্ত্রী নীতিন প্যাটেল, গোর্ধন জাদাফিয়া, প্রফুল কে প্যাটেলের মতো নাম বারবার উঠে আসছে মোদীগড়ের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে। এদিকে গুজরাতের বিজেপি প্রধান সি আর প্যাচেল জানিয়েছেন যে, বারবার মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য তালিকায় তাঁর নামও উঠে আসছে। তবে তিনি এই দৌড়ে নেই। একথা নিজেই সাফ জানিয়েছেন প্যাটেল। এদিকে, শনিবার বিজয় রুপানি ইস্তফা দেওয়ার পরই স্পষ্ট করে দেন যে , তিনি গর্বের সঙ্গে নিজের পদ ছাড়ছেন। ফলে এই জায়গা থেকে বহু জল্পনা তৈরি হয়েছে।

মার্চ মাসের ৯ তারিখে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াত ইস্তফা দেন। সেই জায়গায় আসেন বিজেপির তিরথ সিং রাওয়াত। এদিকে, জুলাই মাসের শেষে ২৬ তারিখ কর্ণাটকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন বি এস ইয়েদুরপ্পা। তারপর সেই জায়গায় আসেন বাসবরাজ বোম্মাই। এরপরই গুজরাতের বিজয় রুপানির নাম উঠে এলো ইস্তফার তালিকায়। মনে করা হচ্ছে পদ থেকে এই বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীদের সরে যাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে তাঁদের কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থতা। এদিকে, গুজরাতের পর্যবেক্ষক হিসাবে আহমেদাবাদে পা রেখেই নরেন্দ্র তোমার জানান, রাজ্যের বিজেপি প্রধান ও বাকিদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করতে তাঁরা সেখানে গিয়েছেন। সূত্রের দাবি, মনে করা হচ্ছে আজকের মধ্যেই গুজরাতের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে একটি সিদ্ধান্ত চলে আসবে।

বিজেপির হাইভোল্টেজ বৈঠকে এদিন আমেদাবাদে আয়োজিত হতে হতে চলেছে। এদিন দুপুর ৩ টেয় রয়েছে বৈঠক। মোদী-শাহদের ভূম গুজরাতের মাটিতে বিজেপির অভ্যন্তরে এভাবে বড়সড় পরিবর্তন ঘিরে রীতিমতো পারদ চড়তে শুরু করে দিয়েছে। এদিকে একটি সূত্রের খবর যে, এই বৈঠকে সম্ভবত অমিত শাহ হাজির থাকতে পারেন। এদিকে, গুজরাতে মুখ্যমন্ত্রী পদের একাধিক দাবিদারের নাম শোনা যেতে শুরু করেছে। রবিবাসরীয় জাতীয় রাজনীতির নজর এদিন সেদিকেই রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here