মিলছে না দূতাবাসের সাহায্য ,প্রথম ভারতীয় ডাক্তারি পড়ুয়ার মৃত্যু পর উঠছে নানা প্রশ্ন !উদ্বেগ পরিবারগুলি

0
479

পিঙ্কি শর্মা, নয়াদিল্লি : দিন তিনেক আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে রাজ্যের ১৯৯ জন ছাত্রছাত্রীর নাম-ঠিকানা বিদেশমন্ত্রকে পাঠিয়ে ইউক্রেন থেকে তাঁদের উদ্ধারের জন্য বলা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে দু-একজন এর মধ্যে ফিরে এলেও প্রায় সবাই কোথাও না কোথাও আটকে রয়েছেন। রাশিয়ার বিমান হানায় কর্নাটকের ডাক্তারি পড়ুয়া ছাত্রের মৃত্যুর পরে পরিবারগুলির উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সোনারপুরে পুষ্পক স্বর্ণকার ইউক্রেনে ডাক্তারি পড়তে গিয়েছিলেন। ২৪ ফেব্রুয়ারির পর থেকেই উদ্বেগে তাঁর পরিবার। এদিন সংবাদ মাধ্যমকে তাঁর মা জানিয়েছেন, ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে ইউক্রেনের সীমান্ত পেরিয়ে রোমানিয়ায় ঢুকেছে। সেখানে তাঁদের থাকা, খাওয়ার বন্দোবস্ত হয়েছে। সীমান্ত থেকে বুখারেস্ট অনেকটাই দূর। আর অন্য দেশের বাসিন্দাদের সঙ্গে সেখানেও প্রচুর ভারতীয় রয়েছেন।

তবে সীমান্তে মাইনাস সাত ডিগ্রি তাপমাত্রায় আটকে ছিল। ভয়ানক পরিস্থিতির মধ্যেও স্বস্তি যে বাড়ির ছেলে ইউক্রেন থেকে রোমানিয়ায় প্রবেশ করতে পেরেছে। এক্ষেত্রে পুষ্পকের পরিবার বলছে, এখানে পুষ্পক একটা চরিত্র মাত্র। অনেকেই এমন পরিস্থিতি। বন্ধুদের অনেকেই কিয়েভে বাঙ্কারে আটকে। সেখানে খাবারও শেষ হয়ে আসছে বলেও ছেলের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন বলে জানিয়েছেন।

ভারতীয়দের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন

কিয়েভ কিংবা খারকিভ থেকে ট্রেনে কিংবা বাসে করে ভারতীয়দের হাঙ্গেরি, রোমানিয়া সীমান্তে যাওয়ার কথা বলা হলেও, কোনওটিই সময় মতো চলছে না। এর ওপরে সেখানে ইউক্রেনের বাসিন্দারাও দেশ ছাড়ছেন। ফলে ট্রেন ও বাসে চড়াও কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এছাড়াও ভারতীয় দূতাবাসের তরফে কিয়েভ ছাড়ার কথা বলা হলেও, কোনও সাহায্যই করা হচ্ছে না বলে একের পর এক ছাত্রছাত্রী সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ছাত্রছাত্রীরা নিজের দায়িত্বে, নিজের পয়সা খরচ করে পোল্যান্ড, রোমানিয়া কিংবা হাঙ্গেরির সীমান্তের দিকে যাচ্ছেন। এব্যাপারে অবশ্য ভারতীয় দূতাবাসের তরফে সাফাই দিয়ে বলা হচ্ছে, তাদেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

এদিন সকালে ইউক্রেনে রাশিয়ার গোলায় ভারতীয় ডাক্তারি পড়ুয়ার মৃত্যু দেশের মানুষের কাছে উদ্বেগের বলে মনে করছেন প্রাক্তন সেনাকর্তা পৃথ্বীরঞ্জন দাস। সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ইউক্রেন সীমান্তে সে দেশের সেনার হেনস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রসংঘে ভারত কেন ইউক্রেনকে সমর্থন করেনি, তার জন্য ভারতীয় ছাত্রদের হেনস্থা করা হয়। একই কথা বলেছেন ব্রিগেডিয়ার দেবাশিস দাস।

প্রাক্তন সেনা কর্তা পৃথ্বীরঞ্জন দাসের প্রশ্ন কেন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আগে থেকেই ভারতীয়দের উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়নি। কেননা দুদেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছিল। এছাড়াও দুদেশের মধ্যে সম্পর্কও ভারতের সঙ্গে ভাল ছিল। কেন ভারতীয়দের আগে থেকেই পোল্যান্ড, রোমানিয়া কিংবা হাঙ্গেরির সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here