মর্মান্তিক ঘটনা ,লকডানের মধ্যে বাড়ি পৌঁছতে চেয়ে টানা ৩ দিন হাঁটার পর পথেই মৃত্যু কিশোরীর !

0
260
         Third Party Image Reference

মর্মান্তিক ঘটনা ,লকডানের মধ্যে বাড়ি পৌঁছতে চেয়ে টানা ৩ দিন হাঁটার পর পথেই মৃত্যু কিশোরীর !

BAHRS GLOBAL NEWS, 21 APR 2020
নিজস্ব সংবাদদাতা,ছত্তিশগড় : করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যখন গোটা দেশ লড়ছে,তখন করোনা নয়, দীর্ঘ পথ হাঁটার পরিশ্রমই প্রাণ কাড়ল ১২ বছরের এক কিশোরীর। বর্তমানে কোভিড-১৯ এর সংক্রামণ রুখতে টানা লকডাউন জারি করা হয়েছে দেশে। ফলে নিজের বাড়ি থেকে ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে আটকে পড়েছেন বহু শ্রমিক।
ঠিক সেই রকম এক গায়ে কাঁটা দেওয়া ঘটানা উঠে এলো। জানা গেছে, তেলেঙ্গানার একটি গ্রামে মরিচের শস্যক্ষেতে কাজ করতে গিয়েছিল সে, লকডাউনের জেরে সেখানেই আটকে পড়ে মেয়েটি। কিন্তু ঘরে ফেরার টানে কোনও উপায় না দেখে ছোট্ট মেয়েটি আরও ১১ জনকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটতে শুরু করে তেলেঙ্গানা থেকে ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলায় থাকা তাঁর বাড়ির উদ্দেশে।
১৫ এপ্রিল থেকে দিন-রাত এক করে হাঁটতে হাঁটতে শেষ পর্যন্ত নিজের বড়ি থেকে মাত্র ঘন্টাখানেকের দূরত্বে মুখ থুবড়ে পড়ে সে। পথেই মারা যায় জামলো মাকদম নামের ওই কিশোরী। শুধু পরিবারের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দেওয়ার জন্য অন্য রাজ্যে গিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সে। যে বয়সে তাঁর স্কুলে যাওয়ার কথা,সেই সময় শস্যক্ষেতে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতো সে।
দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময়, খাবার বা জল, কোনওটাই ঠিকমতো মেলেনি তাঁর। সবাই মিলে টানা তিন দিন হাঁটে তাঁরা,জাতীয় সড়ক দিয়ে নয়, শর্টকাটে যাওয়ার জন্যে বনজঙ্গলের মধ্য দিয়েই হাঁটতে থাকে তাঁরা। জামলো যখন তাঁর বাড়ি থেকে আর ১৪ কিলোমিটার দূরে,তখনই হঠাৎ পেটে মারাত্মক ব্যথা অনুভব করে সে।
যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে মুখ থুবড়ে পড়ে পথের মধ্যেই। পরে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। জীবদ্দশায় বাড়ি ফেরার জন্যে কোনও গাড়ি না মিললেও ,অবশেষে, তাঁর মরদেহ বাড়ি ফেরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে। কী দু:সহ এই ছবি ,জামালোর নিথর দেহ যখন ফিরলো গ্রামে। তখন সেখানকার প্রতিটি মানুষের চোখে জল।
কিশোরীর মৃত্যুর কারণ হিসাবে চিকিৎসকরা মারাত্মকভাবে তাঁর শররের ডিহাইড্রেড অবস্থা এবং অপুষ্টিকেই দায়ী কতেছেন। জেলা মেডিকেল অফিসার বি আর পূজারি জানান , ওই কিশোরীর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়নি। তাঁর শরীরের নমুনা পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ ধরা পড়ে।
তাঁর শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতায় দেখা গেছে। মেয়েকে অকালে হারিয়ে বাবা অন্দরম মাকদম ,মা ও পরিবারের অন্যরা এখন নাওয়া-খাওয়া ভুলে যেন পাথর হয়ে বসে আছেন। রাজ্য সরকার মেয়েটি পরিবারকে ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here