মমতাকে প্রাণনাশের হুমকি ! অভিযুক্ত বিজেপি নেতা যোগী রাজ্যের, প্রশাসনিক কাজে বাংলার পুলিশ হেনস্তা

0
866

সুরোজ ঠাকুর , উত্তর প্রদেশ : উত্তরপ্রদেশে গিয়ে হেনস্তার মুখে বাংলার পুলিশ। এক বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করতে গিয়ে রীতিমত মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রায় কয়েকশ ছেলে তাঁদের ঘিরে ধরে বলে অভিযোগ। কোনও রকমে প্রাণ হাতে নিয়ে এলাকা ছেড়ে বের হন পুলিশ আধিকারিকরা।

যদিও ঘটনার খবর পেয়ে উত্তরপ্রদেশের বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কার্যত সুরক্ষা দিতে তাঁদের বের করে আনা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে এই ঘটনাতে প্রশ্নের মুখে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ প্রশাসন।

নিয়ম অনুযায়ী কোনও রাজ্যের পুলিশ অন্য রাজ্যে অভিযুক্তকে ধরতে গেলে তাঁদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট পুলিশকে। এখানে কেন তা দেওয়া হল না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বাংলা থেকে আসা সমস্ত পুলিশ আধিকারিকরা সুরক্ষিত রয়েছে।

তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। এভাবে যোগী রাজ্যে গিয়ে বাংলার পুলিশের হেনস্তার ঘটনাতে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে তৃণমূলের তরফে। এই প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলেন, “অত্যন্ত নিন্দাজনক ঘটনা। এটা সম্পূর্ণ ভাবে প্রমাণ করে যে উত্তর প্রদেশে জঙ্গলরাজ চলছে।

শুধু তাই নয়, আইনশৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। কুণাল জানিয়েছেন, উত্তর প্রদেশ, ত্রিপুরা যেখানে যেখানে বিজেপি আছে, সেখানেই জঙ্গলরাজ চলবে। মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করা হবে আর ধরতে গেলে পুলিশকে আটকে রেখে দেবে! এটা কি ধরনের অসভগ্যতা? প্রশ্ন তৃণমূল নেতার।

যদিও পাল্টা বিজেপির দাবি, রাজ্যে প্রত্যেকদিন বিজেপি নেতা-কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। কিছু বলতে গেলেই মিথ্যা কেসে ফাঁসানো হচ্ছে। আগে বাংলার দিকে দেখুক এরপর উত্তরপ্রদেশ নিয়ে কথা বলবেন, পাল্টা তৃণমূলকে তোপ বঙ্গ বিজেপির।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭ সালে। সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়াতে এক বিজেপি নেতাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাণনাশের হুমকি দিতে দেখা যায়। এমনকি মমতার হত্যাকারীকে ১১ লক্ষ টাকা পুরস্কার হিসাবেও দেওয়া হবে বলেও সোশ্যাল মিডিয়াতে দাবি করেন ওই বিজেপি নেতা।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও সামনে আসার পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। শুধু তাই নয়, জোর রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়। জানা যায়, ওই বিজেপি নেতা উত্তরপ্রদেশের বিজেপির যুব মোর্চার বড় পদে রয়েছেন। যদিও বিতর্ক সামনে আসতেই ওই নেতাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশে ওই নেতার নামে এফআইআর পর্যন্ত হয়। মামলা হয় বাংলার পুলিশেও। আর সেই ঘটনার সূত্রেই ওই বিজেপি নেতাকে ধরতে তাঁর এলাকাতে পৌঁছয় আধিকারিকরা।

আর সেখানে পৌঁছতেই ওই নেতার অনুগামীরা পুলিশ আধিকারিকদের সম্পূর্ণ ভাবে ঘিরে ফেলে। ধাক্কাধাক্কি থেকে শুরু হলেও পড়ে তাঁদের উপর ওই নেতার অনুগামীরা চড়াও হয় বলেও অভিযোগ। কার্যত কোনও রকমে এলাকা ছাড়েন বাংলার পুলিশ আধিকারিকরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here