ভয়াবহ ভূমিধস হিমাচলে,ধ্বংসস্তুপের নিচে কমপক্ষে ৪০ জন বাস যাত্রী ! বাড়ছে মৃত্যু আশঙ্কা

0
284

পিঙ্কি শর্মা, নয়াদিল্লি : ফের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিমাচল প্রদেশে। কুন্নুরে ধস নেমে ৪০ জনের চাপা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা। হিমাচল প্রদেশ পরিবহণ দফতরের বাস ৪০ জন যাত্রী নিয়ে সেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল তখন ধস নামে বলে খবর। গোটা বাসটি ধসে চাপা বড়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার আবিদ হুসেন সিদিক।

হিমাচল প্রদেশে যেন প্রকৃতির রোষ যে ভয়ঙ্কর আকার নিয়ে। হড়পা বান, একের পর এক ধস নামছে পাহাড়ে। গত এক মাসে একাধিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছে হিমাচল প্রদেশে। ফের নামল ধস। হিমাচল প্রদেশেক কুন্নুরে সিমলা হাইওয়েতে ভয়াবহ ধস নেমেছে। ডেপুটি পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন হিমাচল প্রদেশের রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের একটি বাস ৪০ জন যাত্রী নিয়ে সেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল।

গোটা বাসটাই চাপা পড়ে গিয়েছে ধসে। একাধিক ব্যক্তির মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ ধস নামে বলে জানিয়েছেন তিনি। উদ্ধারকাজে আইটিবিপির জওয়ানরা হাত লাগিয়েছে। উত্তর প্রদেশেক মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুর জানিয়েছেন স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে উদ্ধারকাজে হাত লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। NDRF-এর এনডিআরএফের একটি দলও সেখানে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

৪০ জন যাত্রীর মধ্যে কতজনকে জীবীত অবস্থায় উদ্ধার করা যাবে তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভয়ঙ্কর ধসে গোটা রাস্তার একাংশ প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। আইটিবিিপ জওয়ানরা সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেছেন। তাঁদের পাঠানো ছবিতে দেখা গিয়েছে প্রায় গুঁড়িয়ে যাওয়ার অবস্থা হয়েছে বাসটির।

বিশাল বিশাল পাথরের ধাক্কায় একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে বাস। হিমাচল প্রদেশ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের বাস সেটি। কয়েকদিন আগেও কুন্নুরে ধস নেমেছিল। প্রবল বর্ষণে আলগা হয়ে যাচ্ছে মাটি। সেই ধসে আস্ত একটা ব্রিজ গুঁড়িয়ে যায়। তাতে ৯ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল।

করোনা সংক্রমণ কমে যাওয়ায় সবে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছিল হিমাচল প্রদেশে। কিন্তু তারপরেই প্রকৃতির রুদ্ররূপ দেখাতে শুরু করে। ধর্মশালায় ভয়ঙ্কর হড়পা বান দেখা দিয়েছিল। মেঘ ফাটা বৃষ্টিতে ভয়াবহ সেই হড়পা বানের ভিডিও ভাউরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারপরেই একের পর এক ধসের ঘটনা।

তােত পর্যটকদের মৃত্যু। ফের আতঙ্ক তৈরি করেছে। পর্যটকরা এখন হিমাচল প্রদেশ এড়িয়ে যেতে চাইছেন। এতে নতুন করে হিমাচল প্রদেশের অর্থনীতিতে ধাক্কা আসতে শুরু করেছে। গত জুন মাস থেকে ১৩ টি ভয়াবহ ধসের ঘটনা ঘটেছে হিমাচল প্রদেশে। এর আগে এত ধস হিমাচল প্রদেশে দেখা যায়নি। জলবায়ুব পরিবর্তনের কারণেই এই ধরনের ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করছেন আবহাওয়া বিদরা। গত বছর ১৬টি ধসের ঘটনা ঘটেছিল হিমাচল প্রদেশে। ১৭টি হড়পা বানের ঘটনা ঘটেছিল।

সম্প্রতি আইপিসিসির রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে ভয়ঙ্কর সব ঘটনা ঘটার ইঙ্গিত দিয়েছেন আবহাওয়া বিদরা। পৃথিবীর তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করেছে। যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে একাধিক জায়গায়। ভারতের উপকূলবর্তী শহরগুলিতে বিধ্বংসী ঝড় বাড়ছে।

আইপিসিসির রিপোর্ট বলছে সমুদ্রের জলের উত্তাপ বৃদ্ধির কারণেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। আর ৮০বছর পর ভারতের উপকূলবর্তী একাধিক শহর সমুদ্রের নীচে চলে যাবে। সেই তালিকায় রয়েছে ভারতের ১২টি শহর। রয়েছে মুম্বই, কলকাতা, বিশাখাপত্তনম, চেন্নাই, কোচি-র মতো শহরগুলি। পৃথিবীর উত্তাপ বাড়তে শুরু করায় প্রমাদ গুণছের আবহাওয়াবিদরা। হিন্দুকুশ রিজিয়নের বিপদ সর্বাধিক বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here