বড় ধাক্কা পদ্ম শিবিরে ! অভিষেকের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ বাবুল সুপ্রিয়ের

0
729

তীর্থঙ্কর মুখার্জি, কলকাতা : আরও একটা জমজমাট শনিবাসরীয় দুপুর। গত কয়েকদিন আগে এমনই একটা শনিবার দুপুরে হঠাত করেই ফেসবুকে বোমা ফাটান বাবুল সুপ্রিয়। আলবিদা…! ফেসবুকে লেখেন তিনি।

শুধু তাই নয়, তাঁর পোস্টজুড়ে ছিল রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার বার্তা। স্পষ্ট জানিয়ে ছিলেন রাজনীতিতে তিনি আর ফিরবেন না। গান নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন। তবে ফেসবুকে দেওয়া কথা রাখতে পারলেন না বাবুল।

শনিবার দুপুরে ফিরলেন ফের একবার ফিরলেন রাজনীতিতে। তবে এবার মাঠটা অন্য। তৃণমূলের হয়ে খেলতে নামছেন বাবুল সুপ্রিয়। তাও আবার কিনা চেনা মাঠ বিজেপির হয়েই।

বাবুল সুপ্রিয়কে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা ছিল। কিন্তু বারবার সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতারা। এমনকি খোদ বাবুলও সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন বহুবার।

কিন্তু সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থেকে ছেঁটে ফেলা হয় বাবুলকে। আর এরপরেই রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে জানান বাবুল। কিন্তু কোনও রাজনীতি দলে তিনি যোগ দিচ্ছেন না বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু আজ শনিবার বিজেপিতে বড় ধাক্কা। বাবুলকে ছিনিয়ে নিল তৃণমূল।

অভিষেকের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিলেন প্রাক্তন এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। রাজনৈতিকমহলের মতে, বাবুলকে ছিনিয়ে নেওয়া কার্যত মাস্টারস্ট্রোক তৃণমূলের কাছে। বাবুলের যোগদানের পরেই ডেরেকের টুইট, খেলা হবে…!

শোনা যাচ্ছিল ভবানীপুরে সম্ভবত বিজেপির হয়ে প্রচারে আসতে পারেন বাবুল। তবে খেলা ঘোরাল তৃণমূল। প্রচারে আসবেন তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে। রাজনৈতিকমহলের মতে, ২৪ এর লক্ষ্যে ঝাপিয়ে পড়েছে তৃণমূল।

প্রশান্ত কিশোরের বেঁধে দেওয়া ছকে চলছে তৃণমূল। এই অবস্থায় কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে চাইছেন পিকে? উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিকমহলের কারবারিরা।

তাঁদের মতে, প্রথমে মুকুল রায়, এরপর বাবুল সুপ্রিয়কে ছিনিয়ে নিয়ে সেই বার্তা দিতে চাইছে তৃণমূল। বাবুলের মতো এক নেতাকে তৃণমূলে নেওয়াটাও জাতীয় রাজনীতিতেও একটা বার্তা দেওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মাঝে মধ্যেই দেখা যেত দিলীপ ঘোষের সঙ্গে ঝামেলাতে জড়িয়ে পড়েছেণ বাবুল। প্রকাশ্যে কখনও বাবুলকে তোপ দিলীপের, আবার পাল্টা মন্তব্য দিচ্ছেন বাবুলও। কার্যত দুজনের যে সংঘাত চরমে ছিল সে বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। এমনকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদ বাবুলের চলে যাওয়ার পর একটি ফেসবুক পোস্ট করেছিলেণ বাবুল। তা নিয়েও জোর বিতর্ক তৈরি হয়। প্রকাশ্যে বাবুলের সমালোচনা করেছিলেন দিলীপ ঘোষ। তা নিয়েও সংঘাত তৈরি হয়েছিল বাবুলের সঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতির। তবে রাজনৈতিকমহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে আসান্সোলের তৎকালীন মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে দলে নেওয়া নিয়ে সংঘাত তৈরি হয়েছিল। বিরোধীতা করার জন্যে দলের তোপের মুখেও পড়তে হয় বাবুলকে। আর সেই সময় থেকে নাকি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত বাবুল একপ্রকার নিয়ে নেয় বলে সূত্রের খবর।

বেশ কিছু সময়ে তো থাকলাম’.. কিছু মন রাখলাম কিছু ভাঙলাম.. কোথাও আপনাদের হয়তো আমার কাজে খুশি করলাম, কোথাও নিরাশ হতাশ করলাম | মূল্যায়ন আপনারাই নয় করবেন। বাবুল লেখেন, ‘আমার’ মনে ওঠা সব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পরই বলছি.. আমার মতো করেই বলছি.. চললাম..! তাঁর এই ফেসবুক পোস্ট ঘিরে শুরু হয় জোর রাজনৈতিক চর্চা। এই পোস্ট করা নিয়ে সেই সময় কুণাল বলেন, দলের সঙ্গে বারগেনিং করছেন বাবুল! বাড়ি ছেড়ে দেব এই ছেড়ে দেব না বলে আগে কেন সাংসদ পদ ছাড়ছেন না? তবে আজ কুণাল জানিয়েছেন, বিজেপি পার্টিটা একটা গ্যাস বেলুনের মতো। এদিন ওদিক থেকে চালাচ্ছিল। তবে আগামিদিনে আরও বেশ কয়েকজন যে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেবেন সেই ইঙ্গিত দিয়ে রাখেন কুণাল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here