বঙ্গ বিজেপিতে শুভেন্দু গুরুত্বের আসনে, তবে কী বিপন্ন হতে পারে মুকুল-দিলীপদের অস্তিত্ব !

14
548

তীর্থঙ্কর মুখার্জি, কলকাতা : শুভেন্দুর নেতৃত্বেই লড়াই হতে পারে বাংলায়। শুভেন্দু অধিকারীকে দীর্ঘদিন ধরেই টার্গেট করেছিল বিজেপি। শুভেন্দুকে প্রথম থেকেই গুরুত্ব দেওয়াও শুরু করেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। জানা গিয়েছে মোদীও শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠক করতে মুখিয়ে রয়েছেন। এই অবস্থায় বিপন্ন হতে পারে মুকুল-দিলীপদের অস্তিত্ব।

বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প মুখের সন্ধানে রয়েছে। দিলীপ ঘোষ বিজেপির রাজ্য সভাপতি হলেও, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প হতে পারেন না। তেমনই মুকুল রায়ও তা নন। বাংলা থেকে বিজেপির তেমন কোনও নেতা নেই, যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন। কিন্তু রকজনৈতিক বিষেষজ্ঞদের মতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নই হবে তৃণমূলের জয়ের চাবি কাঠি।

এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীকে বহুদিন ধরেই চাইছিল বিজেপি। তা ২০২১-এর আগে সম্ভব হওয়ায় শুভেন্দুকে যে বাংলার মুখ হিসেবে তুলে ধরবে বিজেপি, তা বলাই বাহুল্য। শুভেন্দু বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের নেতৃত্বে থাকলে মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষ-সহ অনেকেরই গুরুত্ব হ্রাস হবে। শুভেন্দুকে পুরো বিজেপি নেতৃত্ব কেমন গুরুত্ব দেন, তার উপরও নির্ভর করবে অনেক কিছু।

বিজেপিতে দিলীপ ঘোষ দায়িত্ব নেওয়ার পর রাহুল সিনহার গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। মুকুল রায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসার পর থেকেই দিলীপ গোষ্ঠীর সঙ্গে মুকুল গোষ্ঠীর সংঘাত লেগে থাকে। বিজেপিতে তৈরি হয় আদি-নব্য দ্বন্দ্ব। বিশেষ করে মুকুল অনুগামীদের নিয়ে বিজেপিতে একটা আলাদা ক্ষেত্র তৈরি হয়।

এবার তৃণমূল ছেড়ে আরও এক হেভিওয়েট শুভেন্দু অধিকারী যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। তাঁকে ঘিরে স্বপ্ন দেখছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এমনকী তাঁকে বঙ্গ বিজেপির মুখ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতার চ্যালেঞ্জার হিসেবে নামিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট। অমিত শাহ ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছ্নে বাংলার ভূমিপুত্রই হবেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী।

শুভেন্দু বিজেপিতে প্রবেশেই তাঁর অনুগামীরা সহযাত্রী হয়েছেন। ফলে প্রথম থেকেই শুভেন্দু নিজের অনুগামী পরিবেষ্টিত থাকবেন। শুভেন্দুকে বিশেষ গুরুত্ব, বিজেপিতে তাঁর বাড়বাড়ন্ত পুরনো বিজেপি নেতারা কেমন চোখে দেখেন, তার উপর কিন্তু নির্ভর করবে সাফল্য। শুভেন্দু বিজেপিতে গিয়েই গুরুত্বের আসনে বসলে অনেকের চক্ষুশূল হয়ে উঠতে পারেন। তৈরি হতে পারে ফাঁক। এই সম্ভাবনাও কিন্তু উড়িযে দেওয়া যাচ্ছে না।

মুকুল রায় বিজেপিতে আসার পর দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে বঙ্গ বিজেপির কমিটিতে তাঁর অনুগামীদের আধিক্য চোখে পড়ার মতো। তৃণমূলত্যাগী নেতারাই বঙ্গ বিজেপির মাথায় বসে রয়েছেন। অন্য দল থেকে মুকুলের হাত ধরে আসা নেতারা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছেন বিভিন্ন শাখা সংগঠনে। বঙ্গ বিজেপি আদতে মুকুলপন্থীদের বিজেপি হয়ে উঠেছে।

শুধু বঙ্গে বিজেপিতেই নয়, কেন্দ্রীয় বিজেপিতেও মুকুল রায় তাঁর আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি নিজে যেমন সর্বভারতীয় সহসভাপতি হয়েছেন, তেমনই রাহুল সিনহার মতো নেতাকে সরিয়ে মুকুল অনুগামী অনুপম হাজরাকে কেন্দ্রীয় সম্পাদকের পদে বসিয়েছেন। এবার শুভেন্দু আসার পর কী পদ পান, তাঁর অনুগামীরা কোন পদে বসেন, তা নিয়ে একুশের আগে চ্যালেঞ্জ রয়েই গেল বিজেপিতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here