দেশে করোনার শিকার মোট ৪১৪, গত ৩৪ ঘন্টায় ৩৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১২,৩৮০ ! রইল বিস্তারিত তথ্য

0
143

দেশে করোনার শিকার মোট ৪১৪, গত ৩৪ ঘন্টায় ৩৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১২,৩৮০ ! রইল বিস্তারিত তথ্য

BAHRS GLOBAL NEWS, 16 APR 2020
পিয়ালী সিনহা, নয়া দিল্লি : ভারতে করোনা ভাইরাসের শিকারে হাড়াচ্ছে একের পর এক প্রাণ। ভারতে করোনা শিকার মোট ৪১৪, গত ২৪ ঘন্টায় ৩৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ২২,৩৮০। ইতিমধ্যেই করোনা সংক্রামণের ক্ষেত্রে দেশের ৬৪০ টি জেলার মধ্যে ১৭০ টি জেলাকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই তালিকার রয়েছে দেশের ৬টি মেট্রো শহর এবং আরো অনেকগুলো বড় শহর।
অতি “সংক্রমিত” এলাকার তালিকায় রয়েছে মোট ১২৩টি জেলা, তার মধ্যে দিল্লির ৯টি জেলা রয়েছে। তালিকায় রয়েছে কলকাতা ,মুম্বই, বেঙালুরু, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, জয়পুর এবং আগ্রার বিভিন্ন অংশ। দেশ বা রাজ্যের ৮০ শতাংশ সংক্রমিত জেলা বা শহরকে “হটস্পট এলাকা” এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যে সমস্ত জায়গায় বেশি সংখ্যক সংক্রমণ ছড়িয়েছে, অর্থাৎ ৪ দিনের কম সময়ে দ্বিগুন হয়েছে সংক্রমণের হার, সেগুলি এই তালিকায়।
৬টি মেট্রো শহরের মধ্যে রয়েছে দিল্লি ,মুম্বাই, কলকাতা, চেন্নাই , বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদ এগুলিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। সমস্ত রাজ্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন সংক্রমণ ওই জেলাগুলির বাইরে না ছড়াতে পারে। সেদিকে নজড় রাখতে। ওই সব হটস্পট অঞ্চলগুলিতে বিশেষ দল থাকবে।
সেই দল কোভিড-১৯ সন্দেহভাজন্দেরই নয়, ইনফ্লুয়েঞ্জার চিহ্নি থাকা ব্যক্তি কিংবা কারও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থাকলেও তাঁদের করোনা পরীক্ষা করা হবে। কেন্দীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে হটস্পট গুলিতে আগামী ২৮ দিন পর্যন্ত সমস্ত বিধিনিষেধ জারি থাকবে যতদিন না সমস্ত রোগী সুস্থ হয়ে উঠছে কিংবা নতুন করে কেউ সংক্রমিত হওয়া বন্ধ হচ্ছে।
২০ এপ্রিল থেকে ছাড় দেওয়া হবে আইটি, ই-কমার্স ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় পরিবহণের ক্ষেত্রে। ছাড় থাকছে কৃষিকাজ ও কৃষি বিপণন এবং তার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য কাজ, নির্দিষ্ট কিছু শিল্প ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সাধারণ পণ্য, দুটির পরিবহণেই মিলবে ছাড়
ছাড় থাকছে মাছ, দুধ, দুগ্ধজাত পণ্য, হাঁস-মুরগি পরিবহণ ও বিক্রিতে। চা, কফির উৎপাদন ও সরবরাহ, এবং রবার বাগানের কাজকেও লকডাউনের আওতার বাইরে রাখা হচ্ছে। গ্রামীণ অঞ্চলে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের কাজ এবং গ্রামাঞ্চলে রাস্তা, সেচ প্রকল্প, ভবন, শিল্প প্রকল্প নির্মাণের কাজেও মিলবে ছাড়।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কয়লা, খনিজ, তেল উৎপাদন করা যাবে। আরবিআই, অন্যান্য ব্যাংক, এটিএম, সেবি ও বীমা সংস্থাগুলির কাজও চলবে। পাশাপাশি ই-কমার্স, আইটি এবং আইটি-সংক্রান্ত পরিষেবা, হার্ডওয়্যার, প্রয়োজনীয় পণ্য এবং প্যাকেজিং শিল্পের কাজও শুরু করা যাবে ২০ এপ্রিল থেকে। খোলা রাখা যাবে ডেটা ও কল সেন্টারগুলোও।
অন্যদিকে পুরোপুরি বন্ধ থাকবে বিমান, রেল ও সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বড় শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমগুলোও বন্ধ থাকবে। বন্ধ রাখতে হবে হোটেল সংক্রান্ত ব্যবসা। সিনেমা হল, থিয়েটার, শপিং কমপ্লেক্সগুলোরও ঝাঁপ বন্ধ রাখার নির্দেশ। এছাড়া আপাতত আগামী ৩ মে লকডাউন চলা পর্যন্ত যে কোনও ধরণের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অন্যান্য অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। বন্ধ থাকবে ধর্মীয় স্থানগুলোও।
এদিকে বুধবার দেশের শীর্ষ চিকিৎসা সংস্থা ইন্ডিয়ান মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (ঈচমড়) জানিয়েছে যে চিনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে  চোভীড-১৯ মহামারির উৎস আসলে বাদুড়। তাদের থেকেই ওই রোগ মানুষের দেহে ছড়িয়েছে
আইসিএমআরের প্রধান বিজ্ঞানী ডঃ রমন আর গঙ্গাখেড়কর বলেছেন, “চিনের একটি গবেষণা অনুসারে, মনে করা হচ্ছে যে এই করোনা ভাইরাস বাদুড়ের মধ্যে থেকেই মানুষের শরীরে এসেছে”। “এমনও একটি সম্ভাবনা রয়েছে যে প্রথমে ওই ভাইরাস বাদুড়ের থেকে প্যাঙ্গোলিনের শরীরে ছড়ায়। যেহেতু চিনে পাঙ্গোলিন খাওয়া হয় তাই মনে করা হচ্ছে সেখান থেকেও এটি মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে”, বলেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here