দূর্গাপুরে মানবাধিকার সংগঠন ওমেন সেলের হস্তক্ষেপে নিপীড়িত মহিলা পেল আইনি সহয়তা!

0
179

দূর্গাপুরে মানবাধিকার সংগঠন ওমেন সেলের হস্তক্ষেপে নিপীড়িত মহিলা পেল আইনি সহয়তা !

বিশ্বজিৎ মন্ডল, দূর্গাপুর : দূর্গাপুরে মানবাধিকার সংগঠনের ওমেন সেলের হস্তক্ষেপে ৫ মাস ধরে নিপীড়িত হওয়া মহিলা আইনি সহয়তা পেল মাত্র ৩ দিনে। দূর্গাপুরের লকডাউনে কর্মহীন হয়ে বাড়ি ফিরা এক ডিভোর্সি ভদ্র মহিলার সাথে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার অভিযোগ আনল তাঁদের পরিবারের পরিচিত পঞ্চাশোর্ধ এক কাকুর (নাম বলতে অনিচ্ছুক) বিরুদ্ধে।
দূর্গাপুর ৯/১৪ সেকেন্ডারি রোড এ জোনের বাসিন্দা ডিভোর্সি মলি হাজিরা (২৯) লকডাউনের আগে তাঁর ৪ বছরের এক ছোট কন্যা সন্তানকে নিয়ে কলকাতায় একটি প্রাইভেট সংস্থায় কাজ করে বেশ ভালই চলছিল। লকডাউনে তাঁর চাকরি চলে গেলে ৫ মাস আগে সে তাঁর দুর্গাপুরের নিজ বাস ভবনে ফিরে আসে।

মিলির অভিযোগ এই খবর জানতে পেরেই পূর্বে তাঁদের বাড়ির সাথে যোগাযোগ থাকা পঞ্চাশোর্ধ ওই ব্যাক্তি তাঁর বাড়ি পৌঁছে সরাসরি বিয়ের জন্য পরিবারের ও আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। সেটা এতোটাই চরম আকার নেয় যে রাস্তাঘাটে পর্যন্ত তাঁর পথ অবরোধ করে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের মতো যায়গায় পৌঁছয়।
যখন কয়েক দফায় সেই ভদ্রলোক কে মিলি জানিয়ে দেয় যে সে তাঁকে ছোট বেলা থেকেই কাকু বলে ডেকে আসছে তাঁকে সে বিবাহ করতে পারবে না। কিন্তু এর পর পরিস্থিতি চরমে পৌঁছলে মিলি তাঁর কলকাতা নিবাসী মাস্তাতো দিদিকে সম্পূর্ণ বিষয়টি জানায়। এরপরেই সঠিক ভাবে আইনি সহযোগিতা পেতে মানবাধিকার সংগঠনের দূর্গাপুর ওমেন সেলের সভাপতি অর্পিতা সেনগুপ্তকে সম্পূর্ণ বিষয়টি জানায়।

আইনি সহয়তা পাওয়ার পর কী বলল নিপীড়িতার দিদি

অর্পিতা সেনগুপ্ত প্রথমে বিষয়টি মানবাধিকার সংগঠনের ওমেন সেলের কার্যকারী সভাপতি পিয়ালী সিনহাকে বিস্তর ভাবে জানায়। এরপর দূর্গাপুর মহিলা থানার
ওসি অনন্যা দে-র সাথে পুরো বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন পিয়ালী সিনহা। এরপরেই ৫ মাস ধরে চলা মিলি হাজরার সমস্যা ৩ দিনেই মিটে যায় ওমেন থানার ওসি অনন্যা দে-র আইনি সহয়তায়।
মানবাধিকার সংগঠন “HUMAN RIGHTS BAHRSWB NATIONALIST FORUM” -এর কর্ণধার তীর্থঙ্কর মুখার্জি, রাজ্য সহ সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গের সভাপতি প্রদীপ্ত রায় চৌধুরী, দুর্গাপুর সিটির ওমেন সেলের সভাপতি অর্পিতা সেনগুপ্ত সহ রাজ্যের ওমেন সেলের কার্যকারী সভাপতি পিয়ালী সিনহা সহ সদস্যদের কে ধন্যবাদ জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন মিলি হাজরার দিদি সোনিয়া দত্ত রায়।

বাঁদিকে মানবাধিকার সংগঠনের দূর্গাপুর ওমেন সেলের সভাপতি অর্পিতা সেনগুপ্ত ও ডানদিকে নিপীড়িত মহিলা মিলি হাজরা

এই বিষয়ে মানবাধিকার সংগঠনের রাজ্যের ওমেন সেলের কার্যকারী সভাপতি পিয়ালী সিনহা বলেন, আসানসোল দূর্গাপুরে এক মহিলার নিপীড়িত হওয়ার ঘটনা আমায় দিন সাতেক আগে জানায় দূর্গাপুর ওমেন সেলের সভাপতি অর্পিতা সেনগুপ্ত । অভিযুক্ত ব্যাক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় নাকি প্রথম দিকে আইনি সুবিধে পেতে সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছিল মিলি হাজরা কে। এমনটাই জানায় মিলি।
এর পরেই আমাদের মানবাধিকার সংগঠন-এর অফিসিয়াল মেল আইডিতে তাঁর সমস্যা লিখিত ভাবে জানায় । এরপর দূর্গাপুর মহিলা থানার ওসি অনন্যা ম্যডাম কে বিষয়টি জানালে অভিযুক্ত ব্যাক্তি অভিযোগকারি মিলি হাজরা এবং তাঁর বাবা মা কে নিয়ে বসে ৫ মাস ধরে চলা সমস্যা দিন কয়েক আগেই আইনি ভাবে ৩ দিনে মিটিয়ে দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here