ডেল্টা নিয়ে অস্থির এবার আমেরিকা ! এক লক্ষের বেশি করোনা রোগী ভর্তি হাসপাতালে

0
324

পিঙ্কি শর্মা, নয়াদিল্লি : ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের কারণে আমেরিকায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ফের মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন হাসপাতালগুলিতে করোনা রোগীর সংখ্যা এক লক্ষ অতিক্রম করেছে। গত আটমাসে যা উচ্চতর। এই ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের কারণে দেশে স্বাস্থ্য পরিষেবা পদ্ধতির ক্রমাগত চাপ পড়ছে বলে জানিয়েছে দেশের স্বাস্থ্য ও মানব সেবা বিভাগ।

আগের মাসের তুলনায় চলতি মাসে আমেরিকার হাসপাতালে করোনা রোগীর ভর্তির সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। গত সপ্তাহ ধরে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে করোনায় আক্রান্ত ৫০০ জন করে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছিলেন। এমনটাই জানিয়েছেন দেশের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র। প্রসঙ্গত, গত ৬ জানুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শেষববারের মতো ১,৩২,০৫১ জন করোনা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তারপর থেকে এত সংখ্যায় রোগীকে কখনও হাসপাতালে ভর্তি হতে দেখা যায়নি।

২০২১ সালের গোড়ার দিকে টিকাকরণ শিবির দ্রুত প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তির হার হ্রাস পেতে শুরু করেছিল এবং ২০২১ সালের ২৮ জুন তা কমে ১৩,৮৪৩-এ গিয়ে পৌঁছায়। যদিও দেশে আচমকা ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের কারণে জুলাই মাস থেকে কোভিড-১৯ রোগীর ভর্তি বাড়তে থাকে। আমেরিকার দক্ষিণ অংশ নতুন এই প্রকোপের উৎসকেন্দ্র হলেও দেশজুড়ে হাসপাতালে ভর্তি সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

আমেরিকার স্বাস্থ্য ও মানব পরিষেবা বিভাগের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফ্লোরিডায় সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরপরই রয়েছে টেক্সাস ও ক্যালিফোর্নিয়া। জানা গিয়েছে, আলাবামা, ফ্লোরিডা ও জর্জিয়াতে ৯৫ শতাংশের বেশি আইসিইউ বেড দখল করে রয়েছেন কোভিড রোগীরা।

প্রসঙ্গত, ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, বিশেষ করে ভ্যাকসিন নেওয়া নেই এমন জনসংখ্যার মধ্যে। অন্যদিকে এই ডেল্টার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে রেকর্ড সংখ্যার শিশুরা। স্বাস্থ্য ও মানব পরিষেবা বিভাগের মতে, দু’‌হাজারের বেশি নিশ্চিত ও কোভিড সন্দেহ রয়েছে এমন শিশুরা ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে।

আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা ও টেক্সাস এই তিন রাজ্যে ৩২ শতাংশ করোনা আক্রান্ত বা করোনা হয়েছে এমন সন্দেহে শিশুরা ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। বর্তমানে দেশের কোভিড-১৯ হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ২.‌৩ শতাংশ শিশু। ১২ বছরের নীচে শিশুদের ভ্যাকসিন নেওয়ার ওপর অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তবে আমেরিকা প্রত্যাশা করছে যে শরৎকালেফাইজার ইঙ্ক ভ্যাকসিন ১২ বছরের ঊর্ধ্বে শিশুদের দেওয়া শুরু হয়ে যেতে পারে।

দেশের শীর্ষ সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অ্যান্টনি ফউসি জানিয়েছেন যে এই সপ্তাহে যদি টিকাকরণ বৃদ্ধি করা যায় তবে আগামী বছরের গোড়ার দিকে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকায় ৬১ শতাংশ জনসংখ্যা কমপক্ষে ভ্যাকসিনের একটি ডোজ গ্রহণ করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here