কাবুল বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত বেড়ে ৭২, ১৩ মার্কিন মেরিন জাওয়ান ! কন্ট্রোল রুমে মিস্টার বাইডেন

0
328

অমিত শর্মা, নয়াদিল্লি : সকাল থেকেই জারি হয়েছিল সতর্কবার্তা। পরপর দুটি বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল কাবুল বিমানবন্দর। বৃহস্পতিবার বিকেলের সেই বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে ৬০ জনের। শুক্রবার সকালে সেই সংখ্যা গিয়ে দারিয়েছে ৭২। আহত হয়েছে অন্তত ১২০ জন।

আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, যে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে তার মধ্যে ১৩ জন মার্কিন মেরিন জওয়ানও রয়েছে। পেন্টাগনের তরফে মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত যে একাধিক মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে।’

এয়ারপোর্টের আবে গেটের দিকে এই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আর একটি বিস্ফোরণ হয়েছে ব্যারন হোটেলের কাছে।

জানা গিয়েছে, হোয়াইট হাউসের কন্ট্রোল রুমে বসে প্রতি মুহূর্তের আপডেট নেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যদিও এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। তবে প্রতি মুহূর্তের আপডেট নিচ্ছেন আধিকারিকদের কাছ থেকে। তবে চারজন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর নয়া অশনি সঙ্কেত তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে তালিবানের তরফে এই ঘটনার নিন্দা করা হয়েছে। তালিবানের মুখপাত্র টুইটারে একটি বিবৃতিতে বলেছেন, ‘কাবুল বিমানবন্দরে এ ভাবে সাধারণ মানুষের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে ইসলামিক এমিরেটস অফ আফগানিস্তান।’

তবে কাবুল বিস্ফোরণের ঘটনার জন্যে মার্কিন সেনাকে দায়ি করেছেন ওই তালিবান নেতা। এ দিনের প্রথম বিস্ফোরণ হওয়ার পরই আফগানিস্তানের ফরাসি রাষ্ট্রদূত দ্বিতীয় বিস্ফোরণের আশঙ্কা প্রকাশ করে।

তিনি বার্তা দিয়েছিলেন, ‘সব আফগান বন্ধুদের বলছি এয়ারপোর্ট গেটের কাছে যদি থাকেন, তাহলে সরে যান। দূরে গিয়ে আশ্রয় নিন। দ্বিতীয় বিস্ফোরণ হওয়া সম্ভব।’ আর এরপরই সেই আশ্কা সত্যি করে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে যায়।

এদিন সন্ধ্যায় একের পর এক বিস্ফোরণে রীতিমত আতঙ্কিত হয়ে পড়েন আফগান মানুষেরা। শুধু তাই নয়, এখনও পরজত কাবুলের মাটিতে বহু দেশের নাগরিকরা রয়েছে। চলছে উদ্ধারকাজ। আর এই উদ্ধারকাজ চলাকালীন উত্তপ্ত হয়ে উঠে পরিস্থিতি। নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে কাবুল বিমানবন্দরে যাওয়া ইটালির বিমান লক্ষ্য করে গুলি চালায় তালিবান জঙ্গিরা।

যদিও পাল্টা মার্কিন সেনার তরফেও গুলি চালানো হয়েছে। দুপক্ষের গোলাগুলিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। আর সেই রেশ কাটতে না কাটতেই বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠল কাবুলের মাটি।

এই ঘটনারম পর একের পর এক ছবি-ভিডিও টুইটারে আসতে থাকে। যা দেখে কার্যত হাড়হিম হয়ে যায় বিশ্ববাসীর। চারপাশ জুড়ে শুধুই রক্ত আর রক্ত। একটি ভিডিওতে দেখা যায় বিমানবন্দরে সামনে বহু মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। শুধু তাই নয়, বেশ কয়েকটি ছবিতে দেখা যায় বিস্ফোরণের পর আহতদের নিয়ে মানুষজনের ছোটাছুটি। রীতিমত হাড়হিম করা ছবি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here