করোনা ভাইরাস : যেসব খাবারগুলি ভিষণ ভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে !

9
745
করোনা ভাইরাস : যেসব খাবারগুলি ভিষণ ভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে !
BAHRS GLOBAL NEWS, 24 MAR 2020
নিজস্ব প্রতিবেদন : করোনা আক্রান্তে জর্জরিত সারা বিশ্বের মানুষ। লাফিয়ে বেড়ে চলেছে মৃত্যুর সংখ্যা। মৃত্যুপুরীতে পরিণত হচ্ছে এক একটি দেশ। ফলে আতঙ্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না সাধারণ মানুষের মন থেকে
বাঁচার তাগিদ নিয়েই সকল মানুষ মেনে চলেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া উপদেশ সমূহ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি তারাই নভেল করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে সক্ষম হবেন। যে সকল মানুষের শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি রোগ-প্রতিরোধক্ষমতা অত্যন্ত কম তাদের পক্ষে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে ওঠে।
সেক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা মেনে চলার পাশাপাশি নিজের ইমিউনিটি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ, করোনা ঢাকাতে বার বারই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার উপর জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। সুতরাং, উচ্চ স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা অনুশীলন করা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে অনেকাংশেই সহায়তা করতে পারে।
এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন ইমিউনিটি বাড়ানোর ক্ষেত্রে কি খাবেন? তবে চলুন দেখে নেওয়া যাক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে কিছু ভেষজ ও ফলের গুনাগুন সম্পর্কে। যা খেলে দ্বিগুণ মাত্রায় বাড়তে পারে আপনার ইমিউনিটি পাওয়ার।
১) ভিটামিন সি যুক্ত খাবার
শরীরের ইমিউন সিস্টেম বাড়াতে ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই সংকটজনক অবস্থায় নিজেদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। যেমন, কাঁচা আপেল, গাজর, কমলালেবু, ব্রকলি, বেল মরিচ এবং পেঁপে ইত্যাদি। এছাড়াও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ যুক্ত কোন খাবারগুলো খাওয়া প্রয়োজন তা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খেতে পারেন।
২) আদা
এতে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট ও খনিজ থাকায়, এগুলো শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। বিশেষত ফ্লু- এর বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে।
আদা শ্বাসযন্ত্র এবং পরিপাক যন্ত্রের কার্যকলাপকে বাড়িয়ে তোলে। ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস জনিত রোগ যেমন, ঠান্ডা লাগা, ফ্লু -এর লক্ষণ, বুকের সংক্রমণ এবং মুখের ঘা আটকাতে সাহায্য করে। এসমস্ত লক্ষণগুলি করোনা ভাইরাস এর ক্ষেত্রেও দেখা যায়।
৩) রসুন
ইমিউন সিস্টেম বাড়াতে রসুন এর বিকল্প হতে পারে না। কারণ, রসুনে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন- সি ও ভিটামিন – এ, খনিজ, ম্যাঙ্গানিজ এবং সেলেনিয়াম। এর পাশাপাশি রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতিও সঠিক রাখে।
৪) মাশরুম
মানব দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা থাকে ভিটামিন ও মিনারেলের। প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি মাশরুমে থাকে সবচেয়ে বেশি ভিটামিন ও মিনারেলমাশরুমে আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন বি-১২, পটাসিয়াম ও সেলেনিয়াম যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়াও রক্তের শ্বেত কণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে তোলে। আরে এই শ্বেত রক্তকণিকা দেহে অসুখ-বিসুখ এর সঙ্গে লড়াই করে।
৫) হলুদ ও দুধ
হলুদ ভাইরাস বিরোধী, ব্যাকটেরিয়া বিরোধী ও ফাঙ্গাল বিরোধী বৈশিষ্ট্য যুক্ত প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। হলুদের মধ্যে রয়েছে কারকিউমিন নামে এক ধরনের উপাদান, যা একশর বেশি রোগ সারাতে সাহায্য করে। ভিটামিন ই ভিটামিন সি এর তুলনায় অনেকগুণ বেশি কার্যকরী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কারকিউমিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে
দুধের মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি, ভিটামিন ও মিনারেল,যা দেহের ইমিউন সিস্টেমকে উন্নত করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে পাশাপাশি দেহের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।
সুস্থ থাকতে তাই রোজ শুধু দুধ ও হলুদ খেতে পারেন অথবা এক কাপ দুধের সঙ্গে পরিমাণমতো হলুদ মিশিয়ে মিশ্রণটি পান করতে পারেন।
৬) কৃষ্ণ তুলসী
তুলসী রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ভেষজ। বহু প্রাচীনকাল থেকেই এর উপকারিতা সম্পর্কে আমরা অবগত। তুলসি তে থাকা প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-এ ভিটামিন-সি ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। তাই রোজ নিয়মমাফিক তুলসীপাতা সেবন করুন।
এছাড়া, অ্যাভোকাডো (ভিটামিন বি- ১, সি, এ) , বার্লি ও ওটস (বিটা -গ্লুক্যান ফাইবার), নারকেল (লরিক অ্যাসিড), বেরি (অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট), কিউই ফল, দেশি ঘি ও মধু, বাদাম, আমন্ড, কাঁচা ছোলা, পাকা কলা ইত্যাদি রোগের বিরুদ্ধে লড়তে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
খাদ্যতালিকায় অবশ্যই রাখুন
১) সবুজ সাক সব্জিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, তাই রোজ রাতে রাখুন শাকসবজি।
২) দুগ্ধজাত খাবার যেমন টক দই, ঘি বা মাখন রোজ পাতের রাখুন। কারণ, এই সকল খাবারে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বজায় থাকে।
৩) সজনে ডাঁটা ও সজনে ফুল ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য অত্যন্ত উপকারী। তাই এই সময় এই দুটো রোজদিন পাতে রাখুন।
৪) ডাল ,দানাশস্য, প্রাণিজ প্রোটিন (মাছ, মাংস, ডিম) ইত্যাদি খাবার রোজ খান।
কি করবেন ও কি করবেন না তা দেখে নিন
১) ধূমপান এবং মদ্যপান করবেন না।
২) বাইরের খাবার অর্থাৎ জাঙ্ক ফুড তেল জাতীয় খাবার খাওয়া বন্ধ করুন।
৩) অতিরিক্ত চিনি ও নুন মেশানো খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
৪) মাংস বা ডিম অর্ধেক সিদ্ধ করে খাবেন না। মাংসকে ভালো ভাবে সেদ্ধ করে ফুটিয়ে খান। ডিমকে হাফ বয়েল করে খাবেন না, পুরোপুরি সেদ্ধ করে তারপর খান।
৫) বাজারের প্যাকেটজাত খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
৬)নিজের চাহিদা ও পরিমান মতো জল পান করুন।

9 COMMENTS

  1. Howdy! I could have sworn I’ve been too this blog before but after browsing through some of
    the post I realized it’s new to me. Nonetheless, I’m definitely delighted I found it
    and I’ll be bookmarking and checking back frequently!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here