একের পর এক বাঁধ ভাঙা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ মমতার, চাপ বাড়তে পারে শুভেন্দু-রাজীবের উপর

0
476

তীর্থঙ্কর মুখার্জি, কলকাতা : উপকূলে ব্যাপক তান্ডব চালিয়েছে ইয়াস। পাহাড় প্রমাণ ঢেউ আছড়ে পড়েছে একের পর। ভেসে গিয়েছে দিঘা, মন্দারমণি সহ শঙ্করপুরের বিস্তীর্ন অঞ্চল। উড়ে গিয়েছে বোল্ডার। ভেঙে গিয়েছে রাস্তা।

ইয়াস বাংলায় আছড়ে পড়েনি। তবুও তার ঝাপটাতেই বেসামাল অবস্থা। বিপর্যস্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকা। ভাঙছে একের পর এক নদীবাঁধ। আর তার জেরেই জল ঢুকছে হু হু করে। ভাসিয়ে দিচ্ছে পরপর গ্রাম। আশ্রয়হীন হাজার হাজার মানুষ। কার্যত একই ছবি মেদিনীপুরেও।

ইয়াসে’র দাপটে প্রায় তছনছ দিঘা। ভেঙে গিয়েছে মেরিন ড্রাইভ। মাত্র কয়েক বছর আগে তৈরি মেরিন ড্রাইভ কীভাবে এত ক্ষতিগ্রস্ত হল, নবান্নে বৈঠকে সেই প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেচ দপ্তরের কাজেও ক্ষোভপ্রকাশ করলেন তিনি। এদিন মমতা বলেণ দীর্ঘদিণ ধরে কাজ হয়ে যাচ্ছে। আমি ১০ বার গেছি শুধু শুনেছি কাজ হচ্ছে। কেন এতদিন লাগছে তা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। কেন এতগুলো বাঁধ ভাঙল তা নিয়ে তদন্ত হবে

বৃহস্পতিবার নবান্নে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই বৈঠক চলাকালীন সেচ দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিপর্যয়ের কথা স্বীকার করে নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন মাত্র কয়েক বছর আগে তৈরি মেরিন ড্রাইভের অবস্থা কেন এত খারাপ হল? বছর বছর ঘূর্ণিঝড়ে যদি এত খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয় তবে তা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় এত পরিমাণ অর্থ কোথা থেকেই বা পাওয়া যাবে, সেই প্রশ্ন করেন তিনি।

তাঁর কথায়, ‘টাকা কি জলে দেওয়া হবে নাকি টাকা দিয়ে জল আটকাব?’ মেরিন ড্রাইভের ক্ষতি হওয়ার ঘটনায় সেচ দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তদন্তেরও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, মমতা বলেন, ‘আজকেও বিদ্যাধরী নদীর একটা বাঁধ ভেঙেছে। দীঘায় একটা পাড় বাঁধানোর কাজ চলছে এত বছর ধরে। কেন এত দিন সময় লাগছে। টাকা কি কম নিচ্ছে ? টাকা তো কম নিচ্ছে না। কেন এতদিন সময় লাগছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত একটা টাকাও না দেওয়ার নির্দেশ

ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের ব্যাখ্যা, এর ফলে পরোক্ষে চাপ বাড়তে পারে রাজ্যের দুই প্রাক্তন মন্ত্রী তথা অধুনা বিজেপির দুই নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর। কারণ এই দু’জন নেতা একদা সেচমন্ত্রী ছিলেন রাজ্যের। এই দুই নেতার মধ্যে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বন সহায়ক পদে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তে সায় দিয়েছে মমতার মন্ত্রিসভা। এ বার নতুন করে সেচ বিভাগেও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত হলে রাজীবের উপর চাপ বাড়তে বাধ্য।

প্রবল ঝড় এবং বৃষ্টিতে বহু রাস্তা ভেঙ্গে গিয়েছে। এই অবস্থায় এদিণ বৈঠক চলাকালীন মমতা বন্দ্যপধ্যায় বলেণ, যে যে রাস্তা ভেঙেছে সেগুলোকে ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের মধ্যে নিয়ে নিতে হবে। যারা রাস্তা তৈরি করবে তারা যেন তিন বছরের জন্য রাস্তার সব দায়িত্ব নেয়। না হলে সেই ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। এটা তো সরকারের আইনেই আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here