আন্তর্জাতিক সীমান্তে বিএসএফ জওয়ানদের সাথে চোরাচালানকারীদের মুখোমুখি সংঘর্ষ! মৃত ১

1
304

তীর্থঙ্কর মুখার্জি,নদীয়া : শনিবার সীমান্ত ফাঁড়ি ভাতগাছির ৮২ ব্যাটালিয়ন বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের জওয়ানরা একটি বড় চোরাচালানের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। চোরাচালানকারীরা প্রচুর সংখ্যক বিরল প্রজাতির পাখি এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ ওষুধ জোর করে চোরাচালানের চেষ্টা করছিল। যার জন্য পাচারকারীরা লাঠি, পাথর এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত ছিল।

সীমান্তে মোতায়েন জওয়ানরা লক্ষ্য করে যে দুটি গ্রুপ, একটি ভারতের গ্রামের দিকের প্রায় ৮-১০ সংখ্যায় এবং অপরটি প্রায় একই সংখ্যার বাংলাদেশ দিক থেকে তারবন্দির কাছে এসে জমা হয়। জওয়ানরা দেখে যে চোরাচালানকারীদের কাছে তার কাটার ধারালো অস্ত্র এবং একটি কাটারও রয়েছে। জওয়ানরা চোরাচালানকারীদের চ্যালেঞ্জ জানায় এবং তাদের থামতে বলে, যার ভিত্তিতে একদল চোরাচালানকারী জওয়ানকে উচ্চ রশ্মির টর্চ , লাঠি, পাথর, ইটের টুকরো দিয়ে তাদের মারার চেষ্টা করে এবং অন্য দলটি তার কেটে পাচারের জন্য রাস্তা তৈরি করে।

জওয়ান তার আত্মরক্ষার জন্য এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তের পবিত্রতা বজায় রাখতে বাতাসে একটি গুলি চালায়। কিন্তু চোরাচালানীরা তাদের আক্রমণ চালিয়ে যায়, তখন জওয়ান চোরাচালানকারীদের দিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে, যার শব্দ শুনে পাচারীকারিরা পালাতে শুরু করে। আত্মরক্ষায় চালানো একটি গুলি একজন চোরাচালকের গায়ে লাগে। যার পরে সমস্ত চোরাকারবারি সেখান থেকে পালাতে শুরু করে এবং চোরাচালানিরা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়া চোরাকারবারিকে নিয়ে যায় এবং কিছু দূর নিয়ে যাবার পরে তাকে আহত অবস্থায় রেখে পালিয়ে যায়।

যার পরে সেই চোরাকারবারি মারা যায়। নিহত চোরাকারবারীর নাম আশিক হালসানা, বয়স ১৮, পিতা-আমিনউদ্দিন হালসানা, গ্রাম ভাতগাছি, পোস্ট রানবন্ধ, থানা চাপড়া, জেলা নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ। এটি অস্বীকার করা যায় না যে বিএসএফ জওয়ান যদি আত্মরক্ষায় গুলি না চালাতো , তাহলে জওয়ানের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি ঘটতে পারে।

সকালে যখন মৃত পাচারকারী (আশিক হালসানা) এর মৃতদেহ পাওয়া যায়, তখন গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভের অনুভূতি দেখা যায়, গ্রামবাসীরা বলে যে সহযোগী চোরাচালানকারীরা এই ছেলেটিকে নিয়ে গিয়েছিল, তাকে মাঝখানে আহত অবস্থায় ফেলে রেখেছিল যার ফলে সে মারা গিয়েছিল, গ্রামবাসীরা জানায় যে মৃত চোরাচালানের চাচা ফিরোজ ওই এলাকার এক বড় চোরাকারবারি, যে তার নিজের ভাগ্নে এবং গ্রামের বেশিরভাগ ছোট ছেলেকে পাচারে জড়িত করেছে।

যার জন্য বহুবার আশিকের পরিবারের সদস্যরাও অভিযোগ করেছিল যে সে এই ছেলেদের এই চোরাচালানের জলে না জড়ায়, কিন্তু সে কারও কথায় কান দেয় নি, যার কারণে আজ এই যুবক তার প্রাণ হারায় কয়েক টাকার বিনিময়ে। মরদেহ আরও আইনী কার্যক্রমের জন্য চাপড়া পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। হামলাকারী চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এই ঘটনার এফআইআর করা হচ্ছে

এই ঘটনার তথ্য পাওয়ার সাথে সাথেই কৃষ্ণ নগরের ডিআইজি আমেরিশ কুমার আর্য এবং ৮২ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার শ্রী সঞ্জয় প্রসাদ সিং ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন, বিএসএফ বিষয়টি নিয়ে একটি এফআইআর রেজিস্ট্রেশন করেছে , যার পরে বিএসএফ জওয়ানকে লাঞ্ছিত করা ও আক্রমণ করার জন্য পুলিশ দ্বারা চোরাকারবারীদের উপর অনেক ধারা চাপানো হয়েছে।

আমরিশ কুমার বলেন যে বড় চোরাচালানকারীরা যেন গ্রামের যুবকদের চোরাচালানের সাথে জড়িত না করে এবং সমস্ত চোরাচালানকারীকে এই চোরাচালান ছেড়ে মূলধারায় যোগ দিতে হবে। তিনি বলেন যে আজকাল পাচার কার্যে শিক্ষার্থীরাও জড়িত রয়েছে। বিএসএফ জওয়ানে হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি
স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে চোরাচালানকারীদের পাচারের পথ ছেড়ে দেওয়া উচিত অন্যথায় বিএসএফ তাদের সাথে কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here