অনুব্রত গড়ে গিয়ে মাস্টারস্ট্রোক মমতার, ২০২১-এর আগে একলক্ষ কর্মসংস্থানের আশ্বাস !

3
240

সেখ মোতহার হোসেন, বিরভূম : অনুব্রত গড়ে গিয়ে ভোটের মুখে কর্মসংস্থানের প্রশ্ন। সেই প্রশ্নের উত্তরে দেউচা-পচামি প্রকল্পে একলক্ষ কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বোলপুরে প্রশাসনিক বৈঠক করেন। তারপরেই করেন সাংবাদিক বৈঠক। এই প্রকল্প হলে একশো বছর বিদ্যুতের কোনও অভাব হবে না বলেই দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত গতবছরেই এই খনি প্রকল্প রাজ্যে হাতে আসে।

এদিন দুপুরে কলকাতা থেকে হেলিকপ্টারে বোলপুরে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বেলা দেড়টা নাগাদ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুয়ারে সরকার থেকে অন্য সরকারি প্রকল্প, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায় স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে দেউচা-পচামি কয়লাখনি প্রকল্পের কথা। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের ফলে একলক্ষ কর্মসংস্থান হবে। বেকার সমস্যা অনেকটাই মিটবে বলেও দাবি করেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে উচ্ছেদ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত যত এলাকা দেখা হয়েছে, সেখানে জনবসতি নেই।

সেইসব এলাকায় ব্যক্তিগত জমিও নেই কারও। পুরোটাই সরকারি পতিত জমি। ফলে এখনও সেরকম কোনও সমস্যা নেই। পরে যদি সেরকম কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে চাকরি ও আর্থিক সাহায্যের বিষয়টি দেখা হবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, আলোচনা না করে কোনও জমি অধিগ্রহণ করা হবে না।

২০১৯-এর জুন মাস নাগাদ দেউচা-পচামি রাজ্য সরকারের হাতে আসে। কিন্তু তারপর থেকে টালবাহানা বলছে বিভিন্ন পর্যায়ে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে প্রতিনিধিদল পর্যবেক্ষণ করার পর সমুজ সংকেত দিলেও সমস্যা মেটেনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাক্তন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেন।

সেই কমিটিতে স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে জেলা পরিষদের সদস্যদের রাখা হয়েছিল। সেখান থেকেই সমাধান সূত্র বের হয়। প্রাক্তন মুখ্যসচিব এলাকায় গিয়ে স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন চারটি পর্যায়ে কাজ এগনো হবে। রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, সেখানে আগে পুনর্বাসন দেওয়া হবে, তারপর কয়লাখনির কাজ শুরু করা হবে। রাজ্য সরকারের সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রকল্প এলাকার মধ্যে ৪০০ টি পরিবার বাস করে। তাদের ৪০ শতাংশই আদিবাসী।

দেউচা পচামিকে ভারতের বৃহত্তম কয়লা খনি বলেই বলা হচ্ছে সরকারি পর্যায়ে। এদিনও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সেখানে ২ মিলিয়ন টনের ওপরে কয়লা রয়েছে। প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হতে পাঁচ থেকে ছয় বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, এই খনি থেকে শুধু পশ্চিমবঙ্গই নয়, কেন্দ্রও লাভবান হবে। এই কয়লা খনি থেকে কয়লা ছাড়াও পাথরও উত্তোলন হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here